অর্থবছর জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার প্রস্তাব বিরোধী দলীয় নেতার
জাতীয় বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় আরও কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে দেশের অর্থবছর জুলাই-জুনের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি প্রতি চার মাস অন্তর সংসদে বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনারও সুপারিশ করেছেন।
সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান অর্থবছর কাঠামোর কারণে অনেক সময় প্রকৃত বাস্তবায়নের পরিবর্তে শুধু কাগুজে হিসাব-নিকাশেই কাজ সীমাবদ্ধ থাকে। ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থবছর নির্ধারণ করলে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে আরও সমন্বয় আসবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ড. শফিকুর রহমান বলেন, অর্থবছর শেষ হওয়ার অন্তত তিন মাস আগে সম্পূরক বাজেট উত্থাপন করা উচিত। সীমিত সময়ের মধ্যে বাজেট প্রণয়ন করায় অর্থমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করলেও তিনি বলেন, বাজেট প্রস্তাবে উত্থাপিত বেশ কিছু সংশোধনী গ্রহণ করা হলে গণতান্ত্রিক চর্চা আরও শক্তিশালী হতো।
তিনি আরও বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর কোনো রূপরেখা বাজেটে নেই। তার দাবি, পাচার হওয়া অর্থের সামান্য অংশও ফেরত আনা গেলে বাজেট ঘাটতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের আস্থা অর্জনে সরকারকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সৎ ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করলে রাজস্ব আদায়ও বাড়বে।
উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার প্রসঙ্গ তুলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে না পারলে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন আমদানিনির্ভর অর্থনীতি থেকে বের হতে পারবে না। এছাড়া শুধু খেতাবপ্রাপ্ত নয়, দেশের সব মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বৃদ্ধিরও সুপারিশ করেন তিনি।


