স্লুইস গেটের দায়িত্বে থাকবে স্থানীয় প্রশাসন, নয় পানি উন্নয়ন বোর্ড: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয়
স্লুইস গেটের দায়িত্বে থাকবে স্থানীয় প্রশাসন, নয় পানি উন্নয়ন বোর্ড: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
১৮ জুলাই ২০২৬

নদী ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগকে দীর্ঘদিনের বাস্তবতা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, এসব দুর্যোগের ক্ষতি কমাতে সরকার টেকসই ও শক্তিশালী বেড়িবাঁধ নির্মাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে স্লুইস গেট ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজারের পেকুয়ায় বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অভ্যন্তরীণ পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য যেসব খালের মুখ বন্ধ রয়েছে, সেখানে নতুন স্লুইস গেট নির্মাণ করা হচ্ছে। কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন চলছে, যাতে জলাবদ্ধতা কমানো এবং বন্যার ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি বলেন, লবণাক্ততা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সময়ের প্রভাবে অনেক সময় বেড়িবাঁধ ও স্লুইস গেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।

স্লুইস গেট পরিচালনা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখন থেকে স্লুইস গেটের দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিবর্তে স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ওপর থাকবে।

তার ভাষ্য, স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্ব থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত স্লুইস গেট খুলে পানি নিষ্কাশন এবং প্রয়োজন হলে গেট বন্ধ রেখে লবণাক্ত পানি প্রবেশ রোধ করা সহজ হবে। এতে দুর্ভোগ কমবে এবং ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।

এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় পেকুয়া উপজেলা মাঠে শামসুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ১০০টি ঘর নির্মাণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এ সময় তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে মানুষের যেকোনো দুর্যোগে পাশে থাকা সরকারের দায়িত্ব। ‘সবার আগে বাংলাদেশ, ক্ষমতার আগে জনগণ’—এই নীতিকে সামনে রেখেই সরকার কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষি ও গবাদিপশুপালকদের জন্যও সহায়তা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সার, বীজ ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ক্ষয়ক্ষতির জরিপ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। অনুষ্ঠানের শেষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং বিতরণ করা সহায়তা সামগ্রী পরিদর্শন করেন।

দুই দিনের সফরে শুক্রবার কক্সবাজারে পৌঁছান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সফরের প্রথম দিনে তিনি চকরিয়ার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং দুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন।