‘ককরোচ’ আন্দোলন ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি

জেন-জির বিক্ষোভে নতুন সমীকরণের মুখে মোদি সরকার

জেন-জির বিক্ষোভে নতুন সমীকরণের মুখে মোদি সরকার
২৩ জুলাই ২০২৬

ভারতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ককরোচ আন্দোলন এবার দেশ ছেড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিদেশেও।

শুরুতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও আন্দোলন এখন শিক্ষাব্যবস্থা, কর্মসংস্থান এবং সরকারের জবাবদিহির প্রশ্নে বিস্তৃত হয়েছে। যা নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারকে। এক কথায় জেন-জিদের এই বিশাল বিক্ষোভ মোদি সরকারকে বড় ধরনের দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।

আন্দোলনের শুরুতে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছিলেন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু এখন তারা সরাসরি মোদি সরকারের জবাবদিহি চাইছেন। শুধু একজন মন্ত্রী নয়, পুরো শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতার দায় চাপাচ্ছেন তারা।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বিক্ষোভকারীরা বলছেন, শুধু মন্ত্রী বদলে হবে না, পুরো সরকারের জবাবদিহি চাই। পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের আন্দোলন আগের অনেক বিক্ষোভ থেকে আলাদা এবং তা সরকারকে নতুন চাপে ফেলেছে। আগের আন্দোলনগুলোতে সরকার প্রায়ই ধর্ম, জাতি বা রাজনৈতিক তকমা দিয়ে বিক্ষোভ ভাগ করে দিত। কিন্তু এবারের আন্দোলন একেবারে বাস্তব সমস্যা কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। চাকরি, পরীক্ষা, শিক্ষা ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা। এটিকে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর আন্দোলন বলে চালিয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই আন্দোলনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কোনো প্রতিনিধি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেননি বলে অভিযোগ। শিক্ষার্থীরা জানতে চাইছেন, বারবার প্রশ্নফাঁসের দায় কার? কী সংস্কার হবে? কেন কেউ দায় স্বীকার করছেন না?

আন্দোলনের ৩২তম দিনে সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলেও উভয়পক্ষের অবস্থান এখনো কঠোর। আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, আলোচনা শুরু করতে হলে প্রথম উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে।

এদিকে বিরোধী জোটও সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধের অভিযোগ তুলে সংসদ ও রাজপথে চাপ বাড়িয়ে চলেছে। গতকাল বুধবার সকাল থেকেই যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে।

এরই মধ্যে আটক থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বুধবার বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী জানান, ‘গত (মঙ্গলবার) যখন তাকে আটক করা হয় তখন পুলিশের এক সদস্য তাকে কানে কানে বলেন, এই (মোদি) সরকারের পতন ঘটাও।’