ইরানে ১০ মিনিটেই হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

ইরানে ১০ মিনিটেই হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
১ নভেম্বর ২০২৬

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক বা দুটি স্থাপনা এখনো হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বাকি রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই এসব স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে নতুন করে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।

শনিবার ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করেছে। তবে তার মতে, এখনো এক বা দুটি স্থাপনা বাকি রয়েছে। চাইলে ১০ মিনিটের মধ্যেই সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ স্থাপনাটির কথাও বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র খুব দ্রুত তা করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি স্থাপনা হিসেবে পরিচিত।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন করে হামলা চালাবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা এমন বোকা প্রশ্ন কেন করেন? ধরুন, আমি যদি হামলা চালাই, তাহলে কি আপনাদের জানাব?’

তবে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে বলে দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরান খুব একটা নির্ভরযোগ্য নয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে মোজতবা খামেনির হুঁশিয়ারি

ট্রাম্পের বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে নতুন করে হামলার বিষয়ে সতর্ক করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।

গত মার্চে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেন। এরপর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে এক বৈঠকে মোজতবা খামেনি বলেন, যেকোনো ধরনের হুমকির জবাব তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, যেকোনো মাত্রা বা ধরনের হুমকির জবাব দিতে হবে দ্রুত, কার্যকরভাবে এবং ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই।

বৈঠকে সামরিক কমান্ডারদের ইরানের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদ করার নির্দেশও দেন তিনি। ওই তালিকায় ‘মার্কিন-জায়নবাদী শত্রুর সব ধরনের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সম্পদ’ অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

মোজতবা খামেনির সঙ্গে ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের এটিই প্রথম প্রকাশ্যে আসা বৈঠকের খবর।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর হামলার প্রস্তুতির আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন আগামী ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচন শেষে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করতে পারেন বলে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিভিন্ন বক্তব্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।

গত সপ্তাহে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সাংকেতিক নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনে আবারও ছোট পরিসরে ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান চালানো হতে পারে।

এদিকে, বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ‘স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র সামরিক অভিযান’ চালানোর প্রস্তুতি নিতে পারস্য উপসাগরীয় কয়েকটি আরব দেশকে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বিষয়ে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

সামরিক সক্ষমতার কথা বললেন মার্কো রুবিও

শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে সামরিক লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম। তবে ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে ট্রাম্প এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানান তিনি।

এ সময় ইরানের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ‘সক্রিয়ভাবে ও প্রকাশ্যে’ হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার অভিযোগও করেন রুবিও।

ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত, মোজতবা খামেনির পাল্টা হুঁশিয়ারি এবং ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।