নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ
ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পকে ফেলেছে রাজনৈতিক সংকটে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদেও আগের মতোই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া ও অবস্থান বদলের জন্য আলোচনায় রয়েছেন। তবে ইরান যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি তাঁর প্রশাসনকে এমন এক কৌশলগত সংকটে ফেলেছে, যেখান থেকে সহজে বের হওয়ার পথ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে বিশ্লেষণ করেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ইরানের ওপর দ্রুত সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করা। ওয়াশিংটনের আশা ছিল, ভেনেজুয়েলায় যেভাবে ক্ষমতার পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজেদের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, ইরানের ক্ষেত্রেও তেমন একটি ফল পাওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বরং সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়ে একটি জটিল ও ব্যয়বহুল যুদ্ধে রূপ নিতে শুরু করেছে।
বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে এবং শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচল নতুন ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের মতে, এসব বাস্তবতা ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত গ্রহণেও প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আগের তুলনায় দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করছেন, যার প্রভাব দেশীয় নীতি থেকে শুরু করে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কেও দেখা যাচ্ছে।
বর্তমানে ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে তিনটি পথ খোলা রয়েছে। প্রথমটি হলো সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করা। দ্বিতীয়টি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও চাপ বৃদ্ধি করা। আর তৃতীয়টি হলো সংঘাত থেকে সরে এসে রাজনৈতিকভাবে বিজয়ের ঘোষণা দেওয়া। তবে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরের আলোচনায় প্রতিটি বিকল্পকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সম্প্রতি সামরিক অভিযান জোরদারের কথা বললেও পরে সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন। এর পেছনে অন্যতম কারণ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে রাশিয়া বা চীন নতুন কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন উদ্বেগও রয়েছে ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে।
অন্যদিকে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশলও তাৎক্ষণিক ফল দেবে না। এ ধরনের পদক্ষেপ কার্যকর হতে সময় লাগে এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতিও বজায় রাখতে হবে, যা ব্যয় ও নিরাপত্তা—উভয় দিক থেকেই নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।
সবশেষ বিকল্প হিসেবে বিজয়ের ঘোষণা দিয়ে সংঘাত থেকে সরে আসাও সহজ নয়। কারণ, সে ক্ষেত্রে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ও আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে ট্রাম্প প্রশাসনকে। ফলে যে পথই বেছে নেওয়া হোক না কেন, ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে ইতিহাসে থেকে যাবে বলে মন্তব্য করেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।


