উগ্র ইসলামপন্থিদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের ঘোষণা বুরকিনা ফাসোর

উগ্র ইসলামপন্থিদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের ঘোষণা বুরকিনা ফাসোর
২৭ জুলাই ২০২৬

বুরকিনা ফাসোর সামরিক শাসক ইব্রাহিম ট্রাওরে ইসলামের নামে চরমপন্থি মতাদর্শ প্রচারের অভিযোগে কিছু মুসলিম আলেমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ধর্মের নামে উগ্রবাদ ছড়ানোর চেষ্টা হলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে ট্রাওরে বলেন, যারা ইসলামের নামে চরমপন্থা প্রচার করছেন, তাদের বিরুদ্ধে সরকার লড়াই করবে। তার ভাষায়, “যদি এটাই আপনাদের ইসলাম হয়, তাহলে আমরা এর বিরুদ্ধে লড়ব। চরমপন্থিদের পরিবর্তন হতে হবে, না হলে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে।”

তিনি সম্প্রতি পাস হওয়া ধর্মীয় স্বাধীনতা আইনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, আইনটি দেশের ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। নতুন আইনের আওতায় কোনো ইমাম খুতবা বা ধর্মীয় বক্তব্যে চরমপন্থি মতাদর্শ প্রচার করলে তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তবে ট্রাওরে বলেন, যারা শান্তিপূর্ণ ইসলামের শিক্ষা ও সহাবস্থানের বার্তা প্রচার করেন, সরকার তাদের সহযোগিতা করবে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিদেশি শক্তি ধর্মকে ব্যবহার করে বুরকিনা ফাসোকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

আলেমদের সঙ্গে সরকারের টানাপোড়েন

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশটির মুসলিম আলেমদের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। গত মে মাসে প্রভাবশালী সুন্নি আলেম ইমাম মোহাম্মদ ইসহাক কিন্দো নতুন ধর্মীয় স্বাধীনতা আইনের সমালোচনা করার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হলে রাজধানী উয়াগাদুগুর বৃহত্তম সুন্নি মসজিদ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

এর আগে এপ্রিল মাসে ইমাম মাহমুদ বারোকেও একই ধরনের অভিযোগে আটক করা হয়। পশ্চিম আফ্রিকাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান টিম্বুক্তু ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, ইমাম কিন্দোকে গ্রেপ্তারের পর থেকে তার অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।

নতুন আইনে কী রয়েছে

গত ২০ জুন অনুমোদিত ধর্মীয় স্বাধীনতা আইনে ধর্মের নামে শিশুদের ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা, আর্থিক তথ্য গোপন করা এবং সরকারের নির্ধারিত কিছু বিধি লঙ্ঘনের জন্য জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

সরকারের দাবি, আইনটির উদ্দেশ্য ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থা সুসংহত করা। তবে সমালোচকদের মতে, এটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ানোর একটি পদক্ষেপ।

বিদেশে ইসলামি শিক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন শর্ত

ট্রাওরে ঘোষণা দিয়েছেন, বিদেশে ইসলামি শিক্ষা নিতে যেতে হলে বুরকিনাবে শিক্ষার্থীদের সরকারি অনুমতি নিতে হবে। এছাড়া যারা পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরবেন না, তাদের নাগরিকত্ব বাতিলের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

বিশ্লেষকদের উদ্বেগ

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর মুসলিম আলেমদের একটি অংশ ট্রাওরে সরকারকে সমর্থন করলেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই সম্পর্কের অবনতি ঘটিয়েছে। একই সময়ে দীর্ঘদিনের জঙ্গি সহিংসতায় আক্রান্ত দেশটিতে ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে সরকারের এই বিরোধ নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

উল্লেখ্য, ট্রাওরের বক্তব্যে ‘উগ্র ইসলাম’ বা ‘চরমপন্থি’ বলতে তিনি যাদের উদ্দেশ্য করেছেন, তা তার সরকারের অবস্থান। অন্যদিকে আইনটির সমালোচকদের দাবি, নতুন বিধান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করতে পারে।