ইসরায়েলে জার্মানির অস্ত্র রফতানি বহুগুণ বৃদ্ধি: নেপথ্যে সাবমেরিন প্রকল্প

ইসরায়েলে জার্মানির অস্ত্র রফতানি বহুগুণ বৃদ্ধি: নেপথ্যে সাবমেরিন প্রকল্প
২৭ জুলাই ২০২৬

গাজায় আগ্রাসন ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগের মধ্যেও ইসরায়েলে জার্মানির অস্ত্র রফতানি লাইসেন্সের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জার্মানি থেকে ইসরায়েলে অনুমোদিত নতুন সামরিক লাইসেন্সের মোট মূল্যের ৬০ শতাংশেরও বেশি অংশ বরাদ্দ করা হয়েছে অত্যন্ত গোপনীয় একটি ‘প্রধান নৌপ্রকল্পের’ জন্য, যা মূলত একটি সাবমেরিন চুক্তি।

প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই চালানের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় অংশটি হলো জার্মান প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘টিকেএমএস’ নির্মিত ডলফিন-টু শ্রেণির সাবমেরিন ‘আইএনএস ড্রাকন’। পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম এবং আনুমানিক ৪৮০ মিলিয়ন ইউরো (৫৪৮ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের এই সাবমেরিনটি সম্প্রতি ইসরায়েলি নৌবাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এতে ‘ভার্টিক্যাল লাঞ্চিং সিস্টেম’ যুক্ত থাকতে পারে, যা পারমাণবিক ওয়ারহেডযুক্ত ক্রুজ বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে সক্ষম। এর মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার পর আধুনিক নন-নিউক্লিয়ার সাবমেরিনে ভিএলএস প্রযুক্তি ব্যবহারকারী দ্বিতীয় দেশ হতে যাচ্ছে ইসরায়েল। কৌশলগতভাবে এটি ইসরায়েলকে সমুদ্রভিত্তিক দ্বিতীয় আঘাত হানার পারমাণবিক সক্ষমতা প্রদান করবে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এদিকে, গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহে জার্মানির এমন দ্বৈত নীতি বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। মানবাধিকার ও গবেষণা সংস্থা ‘শ্যাডো ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টিগেশনস’-এর গবেষক রুথ রোড বলেন, ইসরায়েল পূর্বেও গাজায় হামলা ও অবরুদ্ধ করে রাখতে জার্মান যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাবমেরিন সরবরাহ ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের ভান্ডারকে আরও শক্তিশালী করবে।

ইউক্রেন যুদ্ধ এবং নিজস্ব অর্থনৈতিক মন্দা কাটাতে জার্মানি তাদের প্রতিরক্ষা শিল্পকে চাঙ্গা করার ওপর জোর দিচ্ছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে জার্মানি রেকর্ড ১৩.৮৭ বিলিয়ন ইউরোর অস্ত্র রফতানি লাইসেন্স অনুমোদন করেছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় চার গুণেরও বেশি।