দাবানলের তাণ্ডবে ইউরোপ, ঝুঁকিতে বহু দেশ
তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা ও দমকা বাতাসের কারণে ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্রান্স, স্পেন, গ্রিস, তুরস্ক ও জার্মানিসহ একাধিক দেশে আগুন নিয়ন্ত্রণে শত শত দমকলকর্মী, অগ্নিনির্বাপক বিমান ও হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জরুরি সাড়া সমন্বয় কেন্দ্র (ইআরসিসি) সতর্ক করেছে, আবহাওয়া অনুকূলে না এলে দাবানলের ঝুঁকি আরও বিস্তৃত হতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের জরুরি সাড়া সমন্বয় কেন্দ্রের প্রধান মারিয়া জুবের বলেন, দাবানলের ঝুঁকি এখন গ্রিস ও মধ্য ইউরোপের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। ইতালি ও আইবেরীয় উপদ্বীপেও পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, আবহাওয়া অনুকূলে না ফিরলে ইউরোপের আরও বিস্তীর্ণ অঞ্চল আগুনের হুমকিতে পড়বে।
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বোর্দো অঞ্চলের বিশাল দাবানল অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এলেও এখন পর্যন্ত প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। আগুনের কারণে দেশটিতে দুই লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হওয়ায় অনেক বাসিন্দাকে বাড়ি ফিরতে দেওয়া হলেও নতুন দাবানলের আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ এখনো সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এই দাবানলকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশের অন্যতম বড় দুর্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
স্পেনেও অন্তত ১০টি বড় দাবানল নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানান, রাজধানী মাদ্রিদের আশপাশসহ বিভিন্ন অঞ্চলে আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখতে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে গ্রিসের জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপ ক্রিটে দাবানলের কারণে হাজারো বাসিন্দা ও পর্যটককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন নেভানোর সময় তিন দমকলকর্মীর মৃত্যুর ঘটনাও নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
দাবানল মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিভিল প্রোটেকশন ব্যবস্থার আওতায় বিভিন্ন দেশ ফ্রান্স ও স্পেনে অগ্নিনির্বাপক বিমান, হেলিকপ্টার এবং উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে তাপপ্রবাহ ও শুষ্ক আবহাওয়ার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় দাবানলের ঝুঁকি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছর ইতোমধ্যে ইউরোপে ৪ লাখ ৩৪ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা দাবানলে পুড়ে গেছে, যা গত বছরের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।


