ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্র সংকটে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান যুদ্ধে টিকে থাকা নিয়ে শঙ্কা

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্র সংকটে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান যুদ্ধে টিকে থাকা নিয়ে শঙ্কা
১ আগস্ট ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক মাস ধরে চলমান সংঘাতের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টরের মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে। এতে বর্তমান মাত্রায় পাল্টা হামলা ও আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্র আর কত দিন চালিয়ে যেতে পারবে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর মজুত ছিল প্রায় ২ হাজার ৩০০টি। বর্তমানে তা কমে ৮২৭টির নিচে নেমে এসেছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

একইভাবে, টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স বা থাড ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর মজুতেও বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সংঘাত শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪৫২টি থাড ইন্টারসেপ্টর থাকলেও বর্তমানে তা ২৭৮টির নিচে নেমে গেছে।

সিএসআইএস সতর্ক করে বলেছে, ব্যবহৃত এসব গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মজুত পুনরায় আগের পর্যায়ে নিতে অন্তত তিন বছর সময় লাগতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মজুতের এই ঘাটতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মতো অন্য কোনো কৌশলগত এলাকায় নতুন সংকট দেখা দিলে সেখানে মোতায়েন মার্কিন সেনা, সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সুরক্ষা দেওয়ার সক্ষমতা চাপে পড়তে পারে।

এই ঘাটতি পূরণে ২০২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৬৭ বিলিয়ন ডলারের জরুরি তহবিল থেকে ১৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে পেন্টাগন।

এই অর্থ দিয়ে নতুন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র, মার্কিন নৌবাহিনীর টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়ই বাড়াচ্ছে না; একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মজুত কমিয়ে ভবিষ্যৎ সামরিক প্রস্তুতি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা কৌশলের ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।