পাঁচ ধাপে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাব বিএনপির

জাতীয়
পাঁচ ধাপে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাব বিএনপির
২ আগস্ট ২০২৬

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন পাঁচ ধাপে আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

শনিবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাত ৮টায় শুরু হওয়া বৈঠকটি শেষ হয় রাত সাড়ে ৯টার দিকে। এতে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান।

দলীয় সূত্র জানায়, বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বিএনপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হয়ে আগামী বছরের মার্চের মধ্যে পাঁচ ধাপের ভোটগ্রহণ শেষ হতে পারে। তবে নির্বাচন আয়োজনের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হয়। ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক চালুর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিল বিএনপি। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এবার দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা না রাখার নীতিগত অবস্থান নিয়েছে দলটি।

ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আগ্রহীরা স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হতে পারবেন বলে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে দলীয় সমর্থন ও প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানদণ্ড তৈরির বিষয়টিও উঠে আসে।

সূত্র জানায়, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরে একক প্রার্থী নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে সংশ্লিষ্ট থানা ও জেলা বিএনপিকে। স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয় না হলে বিভাগীয় নেতারা বিষয়টি দেখবেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য মত দেন, সাংবিধানিকভাবে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও প্রয়োজন হলে এর আগেই ভোট আয়োজন করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে চলতি সংসদ অধিবেশন নির্ধারিত সময়ের আগেই আহ্বানের পরামর্শ দেন কেউ কেউ।

দলীয় সূত্রের ভাষ্য, ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পর সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই সংসদ অধিবেশন ডাকার পক্ষে বৈঠকে অধিকাংশ সদস্য মত দেন।

তবে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীর নাম নিয়ে আলোচনা হয়নি। তারেক রহমান দলীয় প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করে বিএনপির পার্লামেন্টারি বোর্ডের সদস্যদের জানাবেন বলে জানা গেছে।

বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে দেওয়া হয়েছে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। তপশিল ঘোষণার পর দলের পক্ষ থেকে কে মনোনয়ন পাবেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব চেয়ারম্যানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

সংসদের বিশেষ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন তপশিল ঘোষণার পর মনোনয়নপত্র জমা ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। একক প্রার্থী থাকলে ভোটের প্রয়োজন হবে না। একাধিক প্রার্থী হলে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।

বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, দীর্ঘ সময়ের শাসনামলে গড়ে ওঠা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাঠামো পুনর্গঠনের কাজ চলছে। এ প্রক্রিয়ায় সময় লাগলেও ধীরে ধীরে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। মির্জা আব্বাস ও ড. আব্দুল মঈন খান ভার্চুয়ালি বৈঠকে যুক্ত হন।