বেনজীরের মুক্তি নিয়ে মুখ খুলছে না দুবাই পুলিশ

জাতীয়
বেনজীরের মুক্তি নিয়ে মুখ খুলছে না দুবাই পুলিশ
২ আগস্ট ২০২৬

দুবাইয়ের কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়া বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করছে না দুবাই পুলিশ।

রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে বেনজীর আহমেদের মুক্তি ও বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে দুবাই পুলিশ কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি।

ইমেইলে যোগাযোগের পর দুবাই পুলিশ জেনারেল হেডকোয়ার্টার্স জানায়, ব্যক্তিগত ও আইনি গোপনীয়তার কারণে এ ধরনের বিষয়ে তারা তথ্য প্রকাশ করে না। সংস্থাটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, এ-সংক্রান্ত তথ্য জানতে হলে বেনজীর আহমেদের কোনো নিকটাত্মীয়কে সংশ্লিষ্ট পুলিশ স্টেশনে যোগাযোগ করতে হবে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুবাইয়ের কারাগার থেকে মুক্তি পান বেনজীর আহমেদ। তার আগে ২৭ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

পারিবারিক সূত্রের দাবি, কারামুক্ত হওয়ার পর বেনজীর আহমেদ ইউরোপের কোনো দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে আদালতের শর্ত অনুযায়ী, তার দুবাই ত্যাগের অনুমতি নেই। এ ছাড়া তার পাসপোর্টও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা রয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, বেনজীরের জামিন ও মুক্তির বিষয়ে ঢাকায় পুলিশ সদরদপ্তরের ইন্টারপোল শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) কোনো তথ্য জানে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। রোববার দুপুর পর্যন্ত এ বিষয়ে পুলিশের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণসংক্রান্ত নথিপত্র এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দুবাইয়ের আদালতে উভয় পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে নির্দিষ্ট শর্তে বেনজীর আহমেদকে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আদালত।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হন সাবেক এই আইজিপি। দুবাই পুলিশের সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

গত ১২ জুন এক চিঠির মাধ্যমে বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে দুবাই পুলিশ।

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারসহ একাধিক অভিযোগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে দুদক। ওই তদন্তের ধারাবাহিকতায় তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক ছিলেন।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওই তালিকায় বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।

২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের কয়েক মাস আগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। এরপর দুদক তদন্ত শুরু করে। অভিযোগ ওঠার পর তিনি দেশ ত্যাগ করেন বলে জানা যায়।

পরে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয় এবং আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন আদালত।