মোজতাবা খামেনিকে খুঁজছে মোসাদ ও সিআইএ, নতুন কৌশলে ইরান

মোজতাবা খামেনিকে খুঁজছে মোসাদ ও সিআইএ, নতুন কৌশলে ইরান
২ আগস্ট ২০২৬

ইরানের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনির অবস্থান শনাক্তে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি কার্যকর না হওয়ায় মানব গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করছে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ। ইরানের অভ্যন্তরে থাকা গুপ্তচর, তথ্যদাতা এবং গোপন যোগাযোগের সূত্র ধরে তার অবস্থান খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম সানডে টাইমস।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোজতাবা খামেনি জীবিত নাকি নিহত—এ নিয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে ভিন্ন মত রয়েছে। কিছু কর্মকর্তা ধারণা করছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলাতেই তিনি নিহত হয়ে থাকতে পারেন। আবার অন্যদের ধারণা, হামলায় আহত হওয়ার পর তার মৃত্যু হয়েছে। তাদের দাবি, মোজতাবার বর্তমান অবস্থা নিয়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।

তবে অন্য একটি গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, মোজতাবা এখনো জীবিত এবং কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আত্মগোপনে রয়েছেন। তিনি তেহরানের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক অথবা রাজধানী থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের কোম শহরের কোনো সামরিক বাঙ্কারে অবস্থান করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সানডে টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের অভ্যন্তরে মোসাদের বিস্তৃত গুপ্তচর নেটওয়ার্ক থাকায় মোজতাবার অবস্থান শনাক্তে ইসরায়েল তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মানব গোয়েন্দা সক্ষমতা ইরানে দীর্ঘদিন ধরে সীমিত থাকলেও ইসরায়েলের তথ্য সংগ্রহের নেটওয়ার্ক তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মোসাদের সাবেক কর্মকর্তা রামি ইগ্রা বলেন, মোজতাবা মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার না করলেও কাগজে লেখা বার্তা বিভিন্ন বাহকের মাধ্যমে আদান-প্রদান করতে পারেন। তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হলে তা প্রযুক্তিগত নজরদারির বদলে মানব গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমেই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

তিনি আরও বলেন, আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের অবস্থানও তার বার্তাবাহকের গতিবিধি অনুসরণ করেই শনাক্ত করেছিল সিআইএ। মোজতাবার ক্ষেত্রেও যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের গতিবিধি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে উঠতে পারে।

মোসাদের আরেক সাবেক কর্মকর্তা আভনার আব্রাহাম দাবি করেছেন, মোজতাবার প্রকৃত অবস্থান গোপন রাখতে তার মতো দেখতে ডামি বা ছদ্মবেশী ব্যক্তিদের ব্যবহার করা হতে পারে।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও পরবর্তী বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানেও মোজতাবাকে দেখা যায়নি। মাঝে মাঝে তার নামে লিখিত বার্তা প্রকাশ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো অডিও বা ভিডিও বার্তা সামনে আসেনি। এতে তিনি জীবিত নাকি নিহত—সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

এক সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, গত চার দশক ধরে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের মানব গোয়েন্দা সক্ষমতা সীমিত। বিপরীতে ইরানের অভ্যন্তরে ইসরায়েলের গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। তাই মোজতাবার অবস্থান শনাক্তের ক্ষেত্রে মোসাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তবে মোজতাবার অবস্থান নিশ্চিত হলেও তাকে লক্ষ্য করে নতুন হামলার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হতে পারে বলে মনে করছেন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা। ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চিত ধারণা ছাড়া তার বিরুদ্ধে নতুন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।