ডায়াবেটিস থাকলে কখন কলা খাবেন?

স্বাস্থ্য
ডায়াবেটিস থাকলে কখন কলা খাবেন?
৮ আগস্ট ২০২৬

কলা সহজলভ্য ও পুষ্টিকর ফল হিসেবে সবার কাছেই জনপ্রিয়। তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অনেকেই রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কলা এড়িয়ে চলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস থাকলেও পরিমাণ ও সময়ের দিকে খেয়াল রেখে খাদ্যতালিকায় কলা রাখা যেতে পারে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ফুডের এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স মাঝারি। ফলে উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত খাবারের তুলনায় এটি তুলনামূলক ধীরে রক্তে শর্করা বাড়ায়। তবে ব্যক্তিভেদে এর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।

জাসলক হাসপাতাল ও গবেষণা কেন্দ্রের পুষ্টি ও ডায়েটিক্স বিভাগের প্রধান ডেলনাজ টি. চান্দুওয়াদিয়ার মতে, ডায়াবেটিস রোগীর কতটা কলা এবং দিনের কোন সময়ে খাওয়া উচিত, তা রক্তে শর্করার মাত্রা ও ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস বিবেচনায় নির্ধারণ করা ভালো।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

কখন কলা খাওয়া তুলনামূলক ভালো?

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ডায়াবেটিস রোগীরা ভারী খাবারের সঙ্গে কলা না খেয়ে সকাল বা বিকেলের নাশতা হিসেবে খেতে পারেন। বিশেষ করে ভাত, রুটি বা অন্যান্য কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে একসঙ্গে কলা খেলে মোট কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে।

শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার সময় বা ব্যায়ামের আগে-পরে পরিমিত কলা খাওয়াও অনেকের জন্য উপযোগী হতে পারে। তবে ব্যক্তির ওষুধ, রক্তে শর্করার মাত্রা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয় বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

সবুজ কলা নাকি পাকা কলা?

কলার পরিপক্বতার সঙ্গে এর কার্বোহাইড্রেটের ধরনও বদলে যায়। তুলনামূলক কাঁচা বা অল্প পাকা কলায় প্রতিরোধী স্টার্চ বেশি থাকে। অন্যদিকে কলা বেশি পাকলে স্টার্চের একটি অংশ চিনিতে রূপান্তরিত হয়। ফলে অতিরিক্ত পাকা কলা দ্রুত হজম হয়ে রক্তে শর্করার ওপর তুলনামূলক বেশি প্রভাব ফেলতে পারে।

কলার আরও যেসব উপকার

পরিমিত পরিমাণে কলা খেলে ডায়াবেটিস রোগীরাও এর বিভিন্ন পুষ্টিগুণ পেতে পারেন। কলায় থাকা ফাইবার খাবার থেকে শর্করা শোষণের গতি ধীর করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এতে পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন সি ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।

কলা শরীরে শক্তি জোগাতেও সহায়ক। এতে থাকা কার্বোহাইড্রেট শারীরিক কর্মকাণ্ডের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।

কতটা খাবেন?

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ। বড় একটি কলার পরিবর্তে ছোট আকারের কলা বা অর্ধেক কলা খাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে কলা খাওয়ার পর নিজের রক্তে শর্করার প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

ডায়াবেটিসের খাদ্যতালিকা ব্যক্তিভেদে আলাদা হওয়ায় সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। তাই নিয়মিত ওষুধ গ্রহণকারী বা রক্তে শর্করা অনিয়ন্ত্রিত থাকা ব্যক্তিদের খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনার আগে চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

অর্থাৎ, ডায়াবেটিস থাকলেই কলা পুরোপুরি বাদ দিতে হবে—এমন নয়। বরং উপযুক্ত পরিমাণ, সঠিক সময় এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে কলা খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ফুড