ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান হলেন মোহসেন রেজাই

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান হলেন মোহসেন রেজাই
১০ আগস্ট ২০২৬

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)-এর সাবেক প্রধান মোহসেন রেজাইকে দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রোববার ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাউন্সিলের সচিবের পদ থেকে মোহাম্মদ বাঘের জুলঘাদর পদত্যাগ করার পর তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ৭১ বছর বয়সী মোহসেন রেজাই।

প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কার্যালয়ের মুখপাত্র মেহদি তাবাতাবাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় রেজাইয়ের নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা রয়েছে রেজাইয়ের

মোহসেন রেজাই ১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত আইআরজিসির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার দায়িত্বের বড় একটি সময়জুড়ে ইরান-ইরাক যুদ্ধ চলছিল।

আইআরজিসির নেতৃত্ব ছাড়ার পরও ইরানের রাজনীতি ও প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন রেজাই। একপর্যায়ে তিনি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে কঠোর অবস্থান

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছেন রেজাই।

গত জুলাইয়ে তিনি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে ‘ডজনখানেক পারমাণবিক বোমার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তার এমন বক্তব্যের কারণে কৌশলগত এই জলপথ নিয়ে তার অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

সাবেক প্রধান হলেন সর্বোচ্চ নেতার রাজনৈতিক উপদেষ্টা

রেজাইয়ের আগে সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিবের দায়িত্বে ছিলেন মোহাম্মদ বাঘের জুলঘাদর। তিনিও আইআরজিসির সাবেক কমান্ডার এবং গত মার্চে কাউন্সিলের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।

রোববার ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় জানিয়েছে, জুলঘাদর এখন আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের নেতৃত্বে রেজাইয়ের প্রত্যাবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।