মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান

মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান
১৩ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে বাংলাদেশ স্বাগত জানায়। বিনিয়োগকারীদের সাফল্য নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের সম্ভাবনা যাচাই করতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সফরকে স্বাগত জানায় সরকার। তাঁদের এই সফরের মাধ্যমে দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

নিজের ব্যবসায়ী জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে ব্যবসার মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়েছিল। ব্যবসার বিকাশে সঠিক নীতি ও অনুকূল পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই উপলব্ধি করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছয় মাস বয়সী তাঁর সরকার ভবিষ্যৎমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় এবং এ লক্ষ্যেই মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

বাংলাদেশের বড় ও ক্রমবর্ধমান বাজার, তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানকে দেশের অন্যতম শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ, ব্যবসাবান্ধব বাজেট এবং উদার অর্থনৈতিক ও রাজস্ব নীতির প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।

তারেক রহমান বলেন, সরকারের লক্ষ্য বিধিনির্ভর ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত একটি অর্থনীতি গড়ে তোলা, যার মূল চালিকাশক্তি হবে বেসরকারি খাত। এ রূপান্তরে মার্কিন ব্যবসাগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখতে চায় বাংলাদেশ।

জ্বালানি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, অর্থায়ন, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিনিয়োগ ও ব্যবসার বড় সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিনিয়োগ পরিবেশ আরও পূর্বানুমানযোগ্য ও ব্যবসাবান্ধব করার উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, বিধিবিধান সহজীকরণ, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নয়ন, মুনাফা স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সহজ করা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং সরকারি সেবা ডিজিটাল করার কাজ চলছে।

একই সঙ্গে অবকাঠামো, বন্দর, লজিস্টিকস ও জ্বালানি নিরাপত্তার উন্নয়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার কথাও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কিংবা পরামর্শক সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও রাষ্ট্রগঠনে মার্কিন ব্যবসায়ীদের অবদানকে স্বাগত জানাবে সরকার।

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, দুই দেশের রপ্তানি-আমদানি সম্পর্ক শক্তিশালী করার পাশাপাশি বৃহত্তর কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। বাংলাদেশকে উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্রে পরিণত করার পাশাপাশি অগ্রাধিকার খাতে লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা এবং ভবিষ্যতের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

মার্কিন ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি ও উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা।

তিনি মার্কিন কোম্পানিগুলোকে আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুই দেশ একসঙ্গে প্রবৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফর সফল হবে আশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের সহযোগিতায় সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।