শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
১৬ আগস্ট ২০২৬

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের বিচার বিভাগ ও আদালতই নেবে বলে জানিয়েছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের মতে, বিষয়টি সরাসরি রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে না।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

সংবাদমাধ্যমটিকে ভারতের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের বিষয়ে শেষ পর্যন্ত আদালত সিদ্ধান্ত নেবে। এ ক্ষেত্রে অভিযোগ করা অপরাধগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত কি না, সেটিও বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাচাই করা হবে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

অপর এক ভারতীয় কর্মকর্তা জানান, শেখ হাসিনা নিজেই চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তবে তার প্রত্যর্পণের অনুরোধকে দুই দেশের চলমান কূটনৈতিক সম্পর্কের বাইরে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে আলোচনা চলছে এবং সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ভারতীয় কর্মকর্তারা জানান, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র সংযুক্ত করেই শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছে বাংলাদেশ।

দুই দেশের ওই চুক্তিতে অভিযুক্ত, দোষী সাব্যস্ত কিংবা আদালতের সাজা কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় কোনো ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের বিধান রয়েছে। কোনো প্রত্যর্পণযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে পারে।

চুক্তিতে রাজনৈতিক প্রকৃতির অপরাধ প্রত্যর্পণের আওতার বাইরে রাখার কথা বলা হলেও হত্যা, অনিচ্ছাকৃত নরহত্যা, হামলা, আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার এবং হত্যায় প্ররোচনাসহ একাধিক অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা না করার বিধান রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে ভারতের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইনও গুরুত্বপূর্ণ। ওই আইনের অধীনে বিদেশে অবস্থানরত অভিযুক্ত বা দণ্ডিত ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার, পাসপোর্ট অ্যান্ড ভিসা (সিপিভি) বিভাগ প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত বিষয়ে নোডাল কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করে। সংশ্লিষ্ট চুক্তি ও আইনি কাঠামো পর্যালোচনার পর প্রয়োজন মনে করলে মন্ত্রণালয় তদন্তের জন্য একজন ইনকোয়ারি ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করতে পারে।

আইনি প্রক্রিয়ায় তদন্ত শেষে ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন, আবেদনকারী দেশের দাবির পক্ষে প্রাথমিকভাবে যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে, তাহলে অভিযুক্তকে হস্তান্তরের সুপারিশ করতে পারেন। বিপরীতে অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিক মামলা প্রতিষ্ঠিত না হলে অভিযুক্তকে মুক্তি দেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

ফলে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অনুরোধ থাকলেও বিষয়টির পরবর্তী গতি নির্ধারণে ভারতের আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়াই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।