রাজস্ব-ব্যয় কমাতে ভারত-সংশ্লিষ্ট তিন প্রকল্প বাতিলের উদ্যোগ

জাতীয়
রাজস্ব-ব্যয় কমাতে ভারত-সংশ্লিষ্ট তিন প্রকল্প বাতিলের উদ্যোগ
২৩ আগস্ট ২০২৬

ভারতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি নৌ অবকাঠামো প্রকল্প বাতিলের প্রস্তাব করেছে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে দুটি প্রকল্প ভারতীয় ঋণ সহায়তার (এলওসি) আওতায় নেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে ঋণের অর্থ ছাড় না হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অপর প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান ছিল।

বাতিলের প্রস্তাব করা প্রকল্পগুলো হলো—‘আশুগঞ্জ অভ্যন্তরীণ কনটেইনার নৌবন্দর স্থাপন’, ‘যমুনা নদী টেকসই ব্যবস্থাপনা প্রকল্প-১ (নেভিগেশনাল চ্যানেল উন্নয়ন)’ এবং ‘আপগ্রেডেশন অব মোংলা পোর্ট’। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নেওয়া এসব প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সম্প্রতি প্রকল্পগুলো বাতিলের প্রস্তাব পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এর মধ্যে আশুগঞ্জ নৌবন্দর ও মোংলা বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ভারতীয় পণ্য পরিবহণ ও ট্রানশিপমেন্টে অবকাঠামোগত সুবিধা তৈরি করা। অন্যদিকে যমুনা নদীর নেভিগেশনাল চ্যানেল উন্নয়ন প্রকল্পটি ভারত-বাংলাদেশ নৌপ্রটোকল চুক্তির আওতায় জাহাজ চলাচলের সুবিধা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল।

আশুগঞ্জ প্রকল্পে শত কোটি টাকা ব্যয়ের পরও অনিশ্চয়তা

২০১৮ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া আশুগঞ্জ অভ্যন্তরীণ কনটেইনার নৌবন্দর প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ছিল ১ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। পরে কয়েক দফায় ব্যয় বেড়ে ১ হাজার ৭৫১ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। প্রকল্পটিতে ভারতীয় ঋণের পরিমাণ ছিল ৭৩২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৩৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে প্রায় ৩২ একর জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজও হয়েছে। তবে ভারত এলওসি থেকে প্রকল্পটি বাদ দেওয়ায় অর্থায়ন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ভারতীয় ঋণ না পাওয়ায় প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘসূত্রতার কারণে ব্যয়ও বাড়ছে। ফলে প্রকল্পটি বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে।

যমুনা প্রকল্পেও প্রশ্ন উঠেছে প্রয়োজনীয়তা নিয়ে

ভারতীয় নৌযান চলাচলের সুবিধা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ৬২০ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে যমুনা নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নেওয়া হয়। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল।

সিরাজগঞ্জ থেকে কুড়িগ্রাম পর্যন্ত নদীপথে নৌযান চলাচলের সুবিধা বাড়াতে বয়াবাতি স্থাপন, নৌযান কেনা এবং মাস্টারপ্ল্যান তৈরিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম ছিল প্রকল্পটিতে।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, এ নদীপথে বাংলাদেশের নৌযানের সংখ্যা কম এবং বিদ্যমান নৌপথ ব্যবহার করেই সেগুলো চলাচল করতে পারে। ফলে প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ইতোমধ্যে প্রকল্প বাতিলের বিষয়ে বিশ্বব্যাংককে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

মোংলা বন্দর প্রকল্পেও ভারতীয় অর্থায়ন আটকে আছে

ভারতের তৃতীয় এলওসির আওতায় ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ৬ হাজার ১৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘আপগ্রেডেশন অব মোংলা পোর্ট’ প্রকল্প শুরু হয়। প্রকল্পটির আওতায় মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সমুদ্র, নদী, সড়ক ও রেলপথের সঙ্গে যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা ছিল।

প্রকল্পে ভারতীয় ঋণ দেওয়ার কথা ছিল ৪ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা। তবে নির্ধারিত সময়ে ঋণের অর্থ ছাড় না হওয়ায় প্রকল্পের কাজ এগোয়নি। পরামর্শক খাতেই এরই মধ্যে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মোংলা বন্দর আধুনিকায়নে চীনের বড় ধরনের বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় ঋণ ছাড়ে দীর্ঘসূত্রতা থাকায় প্রকল্পটি বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া জানিয়েছেন, ভারত নির্ধারিত সময়ে ঋণের অর্থ ছাড় না করায় প্রকল্পগুলো দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। এতে প্রকল্প ব্যয় বাড়ছে। এসব কারণেই তিন প্রকল্প বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এদিকে একই প্রস্তাবে চলমান কিছু প্রকল্প পুনর্বিন্যাসের কথাও বলা হয়েছে। তবে সরকারি কৃচ্ছ সাধনের নির্দেশনার মধ্যেও বিআইডব্লিউটিএর নতুন ড্রেজার কেনার মতো কিছু প্রকল্প বহাল রাখার প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।