সামিটে ভিড়েছে এলএনজিবাহী জাহাজ বাড়ছে গ্যাস সরবরাহ
কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিট পাওয়ারের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে নতুন করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ শুরু হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেল থেকে এলএনজিবাহী একটি জাহাজ থেকে টার্মিনালে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে।
টার্মিনাল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে বুধবার রাতের মধ্যেই সামিটের টার্মিনাল থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। এতে দেশে চলমান গ্যাস সংকট কিছুটা কমার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশীয় সামিট ও মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল মিলিয়ে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। দুটি টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হলে দৈনিক প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব।
এলএনজি আমদানির দায়িত্বে থাকা রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) এক কর্মকর্তা জানান, গ্রিক পতাকাবাহী ‘মারান গ্যাস আমোরগোস’ এলএনজি নিয়ে বুধবার সকালে বঙ্গোপসাগরে পৌঁছায়। পরে বিকেল থেকে সামিটের টার্মিনালে এলএনজি সরবরাহ শুরু হয়।
এর আগে গত শনিবার আরেকটি এলএনজিবাহী জাহাজ মহেশখালীতে পৌঁছালে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে সরবরাহ শুরু হয়। তবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পরবর্তী এলএনজি কার্গো আসতে দেরি হওয়ায় সামিটের টার্মিনালে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
সামিটের টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৫০০ থেকে ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু এলএনজির সংকটের কারণে সম্প্রতি সেখান থেকে মাত্র ১৮০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছিল।
অগ্নিকাণ্ডের পর একাধিকবার ব্যাহত সরবরাহ
বাংলাদেশে এলএনজি আমদানির জন্য মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির এবং অন্যটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান সামিটের।
গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৫ আগস্ট টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় এলএনজি সরবরাহের জন্য প্রস্তুত হয়। তবে নতুন কার্গো না আসায় পুরোনো মজুত ব্যবহার করে সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল।
এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ থাকার সময় সামিট নিজেদের সক্ষমতার তুলনায় বেশি গ্যাস সরবরাহ করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে টার্মিনালটিতেও এলএনজি মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়।
পেট্রোবাংলা জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনে এলএনজি আমদানি তদারক করে। আর এলএনজি আমদানির দায়িত্ব পালন করে পেট্রোবাংলার প্রতিষ্ঠান আরপিজিসিএল।
গ্যাসের ঘাটতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও চাপ
দেশে প্রায় নয় বছর ধরে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমছে। ঘাটতি পূরণে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হয়। বর্তমানে দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সর্বোচ্চ প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে।
এর মধ্যে এলএনজি থেকে সাধারণত প্রায় ১ হাজার ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। বাকি অংশ আসে দেশের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র থেকে।
তবে গত এক মাস ধরে এলএনজি সরবরাহ গড়ে সক্ষমতার প্রায় অর্ধেকে নেমে আসায় গ্যাসের ঘাটতি তীব্র হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। সামিটের টার্মিনাল থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় সরবরাহ শুরু হলে গ্যাসের ঘাটতি কমার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতিও কিছুটা স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


