ইউরোপে আশ্রয় চেয়ে আবেদন বেড়েছে বাংলাদেশিদের

ইউরোপে আশ্রয় চেয়ে আবেদন বেড়েছে বাংলাদেশিদের
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোতে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। তবে সামগ্রিকভাবে আবেদন কমলেও বাংলাদেশি নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন বেড়েছে ১৩ শতাংশ।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের (ইইউএএ) বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ইইউ সদস্যদেশগুলোর পাশাপাশি সুইজারল্যান্ড ও নরওয়েকে নিয়ে গঠিত ইইউ+ অঞ্চলে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য মোট ৩ লাখ ৩২ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ১৭ শতাংশ কম। ২০২১ সালের পর বছরের প্রথমার্ধে এটিই সর্বনিম্ন আবেদন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ইইউএএ জানিয়েছে, সিরিয়ায় রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে দেশটির নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ইইউর সঙ্গে বিভিন্ন মূল উৎপত্তি ও ট্রানজিট দেশের সহযোগিতাও আবেদনের সংখ্যা কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

তবে এই নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্যেও বাংলাদেশিদের আবেদন বেড়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশি নাগরিকদের ১৭ হাজার ৩২৭টি আশ্রয় আবেদন জমা পড়েছিল। চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৫২১টিতে। অর্থাৎ এক বছরে আবেদন বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ।

আশ্রয় আবেদনের সংখ্যায় আফগানিস্তানের নাগরিকরা শীর্ষে রয়েছেন। এরপর ভেনেজুয়েলা ও বাংলাদেশের অবস্থান। চলতি বছরের প্রথমার্ধে প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি নাগরিক ইইউ+ অঞ্চলে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আবেদন করেছেন।

বাংলাদেশিদের আবেদনে স্বীকৃতির হার কম

ইইউএএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যেসব আশ্রয় আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে, তার এক-তৃতীয়াংশেরও কম অনুমোদন পেয়েছে। নতুন নিয়মের আওতায় যেসব দেশের আবেদন অনুমোদনের হার ২০ শতাংশের নিচে অথবা যেসব দেশকে ‘নিরাপদ দেশ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, সেসব দেশের আবেদন দ্রুত যাচাই করা হচ্ছে।

এই শ্রেণির দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি আবেদনকারীদের প্রথম ধাপের আবেদনের স্বীকৃতির হার ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। ফলে প্রত্যাখ্যাত আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াও জোরদার করা হচ্ছে।

ফ্রান্সে সবচেয়ে বেশি আবেদন

ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে প্রথম ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি আশ্রয় আবেদন গ্রহণ করেছে ফ্রান্স। দেশটিতে প্রায় ৬৯ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। এরপর ইতালিতে ৬৬ হাজার, স্পেন ও জার্মানিতে ৫৫ হাজার করে আবেদন হয়েছে।

এই চার দেশেই ইইউ+ অঞ্চলে জমা পড়া মোট আবেদনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ হয়েছে। তবে জনসংখ্যার তুলনায় সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে গ্রিসে, যেখানে প্রায় ২৩ হাজার আবেদন জমা হয়েছে।

অপেক্ষমাণ মামলাতেও বাংলাদেশ শীর্ষ তালিকায়

জুন শেষে ইইউ+ অঞ্চলে প্রথম ধাপের প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার আশ্রয় আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। এক বছর আগের তুলনায় এ সংখ্যা ৮ শতাংশ কম। প্রশাসনিক ও বিচারিক সব ধাপ মিলিয়ে মোট অপেক্ষমাণ মামলার সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার।

প্রথম ধাপের অপেক্ষমাণ মামলায় ভেনেজুয়েলার নাগরিকরা সবচেয়ে এগিয়ে। তাদের প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এরপর সিরিয়ার ৭৬ হাজার, কলম্বিয়ার ৬৪ হাজার, পেরুর ৩৮ হাজার এবং বাংলাদেশের প্রায় ৩৬ হাজার মামলা অপেক্ষমাণ রয়েছে।

ইইউএএ বলছে, নতুন আবেদন নিষ্পত্তির গতি বাড়লেও ছয় মাসের বেশি পুরোনো মামলার সংখ্যা তেমন কমেনি। ফলে মোট প্রক্রিয়াধীন মামলার মধ্যে পুরোনো মামলার অনুপাত গত বছরের ৬৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

 

সূত্র: ইইউএএ, এএফপি