সৌদির পাইপলাইন বন্ধ, সরবরাহ নিয়ে শঙ্কায় বাড়ল তেলের দাম
সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার পর দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে। পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার উদ্যোগ কতটা দ্রুত সফল হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম নতুন করে বেড়েছে।
মঙ্গলবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বা ১ দশমিক ৩৭ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৫০ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৫১ শতাংশ বা ১ দশমিক ৫৩ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ৯২ ডলারে পৌঁছেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোয় নতুন করে কোনো হামলা বা ক্ষয়ক্ষতির খবর এলেই সেটিকে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য বাড়তি ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছেন ব্যবসায়ীরা।
সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক– এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, নতুন কোনো হামলা বা অবকাঠামোগত ক্ষতির ঘটনা ঘটলে তেল ব্যবসায়ীরা তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করছেন। একই সঙ্গে সৌদির ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন এবং হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল পরিবহন কখন স্বাভাবিক হয়, সেদিকেও বাজারের নজর রয়েছে।
হরমুজে জাহাজ চলাচল কমেছে
এদিকে সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে দিনে ১০টির নিচে নেমে এসেছে। গত ১০ দিনে এ পথে প্রতিদিন গড়ে ১৪টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। তাই এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে দীর্ঘ সময় ধরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
কয়েক দিনের মধ্যেই সরবরাহে চাপের আশঙ্কা
তেল ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, সৌদি আরব দ্রুত ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে না পারলে দেশটির রপ্তানির জন্য সংরক্ষিত তেল কয়েক দিনের মধ্যেই ফুরিয়ে যেতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে প্রতিদিনের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা আরও বাড়বে এবং তেলের দামও নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার চাপ তৈরি হতে পারে।

