প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে প্রতিশোধের সম্পর্ক নেই: ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে প্রতিশোধের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, সরকার এ রায়কে স্বাগত জানায় এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই তাদের মূল লক্ষ্য।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদেরের মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, এ বিষয়ে সরকারের আলাদা করে কিছু বলার নেই। মামলাটিতে সরকারের প্রসিকিউশন টিম তাদের দায়িত্ব পালন করছে।
সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক– এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণায় উচ্ছ্বসিত হওয়ার চেয়ে বড় বিষয় হলো সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে কি না। জনগণ হিসেবে তারা সেটিই দেখতে চান।
উপদেষ্টার ভাষ্য, অভিযুক্তরা দেশে অবস্থান করলে আদালতে নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য ও অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পেতেন। কিন্তু তারা আদালতে উপস্থিত না থাকায় নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে পারেননি। অভিযোগ ও মামলার কার্যক্রমের ভিত্তিতেই সর্বোচ্চ শাস্তির সিদ্ধান্ত এসেছে বলে মনে করেন তিনি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, এসব শাস্তিকে সরকার স্বাগত জানায়। তবে এর সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতিশোধস্পৃহার সম্পর্ক নেই। মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, সরকার সেই ন্যায়বিচার বাস্তবায়ন হয়েছে কি না, সেটিই গুরুত্ব দিয়ে দেখতে চায়।
গ্রামীণ কল্যাণের কর মামলায় সরকারের হস্তক্ষেপ নেই
সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর-সংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশ ও রিট মামলার বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়।
জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। এখানে সরকারের হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, কর মওকুফ নিয়ে আদালতের আগের রায় কী ছিল এবং সেটি কেন তখন কার্যকর হয়নি—এ বিষয়ে কিছুটা ভুল ধারণা ছিল। এখন বিষয়টি বিস্তারিতভাবে সামনে এসেছে। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কর পরিশোধ করতে হবে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষ নিজেরাই ওই কর দিতে চায়নি এবং এ নিয়ে মামলা করেছে। এখন মামলাটি আদালতের স্বাভাবিক গতিতেই চলবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ আপিল বিভাগে যেতে পারে। সেখানেও নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হলে তাদের কর পরিশোধ করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বা অন্য কারও প্রতি সরকারের অনুরাগ কিংবা বিরাগের কোনো বিষয় নেই বলেও তিনি পরিষ্কার করেন। তাঁর মতে, এটি বিচার বিভাগের বিষয় এবং বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবেই দায়িত্ব পালন করছে।
মালয়েশিয়ার ২৫ এজেন্সি বাছাইয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতা নেই
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নির্ধারিত ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির অন্তর্ভুক্তি নিয়েও কথা বলেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি জানান, ওই ২৫টি প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের এখতিয়ার বাংলাদেশ সরকারের হাতে নেই। মালয়েশিয়া সরকারই সংশ্লিষ্ট সংখ্যা ও প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করেছে। ফলে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সীমিত।
তবে বাংলাদেশের শ্রমিকদের স্বার্থ যতটা সম্ভব সুরক্ষিত রাখতে নির্ধারিত ২৫টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্য রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে সহযোগী হিসেবে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
আলোচনার মাধ্যমে মালয়েশিয়া সরকারের নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকেও অন্তত কিছুটা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত ২৫টি প্রতিষ্ঠানও বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে আগের শাসনব্যবস্থার পার্থক্য বুঝে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করবে। এতে আগের তুলনায় ভালো ফল পাওয়া যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন জাহেদ উর রহমান।

