রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পদক্ষেপ নিচ্ছে মালয়েশিয়া
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত রোহিঙ্গা ও অন্যান্য মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংকে সরকারি সফরে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ‘সেমবাংওহইয়াহ’ পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান তিনি। আনোয়ার বলেন, মিয়ানমারের নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেই প্রত্যাবাসন ইস্যুতে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ খুঁজতে চান তিনি।
আনোয়ার বলেন, মালয়েশিয়া মিয়ানমারের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বজায় রাখতে চায়। একই সঙ্গে মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও নিতে হবে। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষকে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব না হলে ধাপে ধাপে প্রত্যাবাসন করা যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টকে সরকারি সফরে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের জানিয়েছেন। এর লক্ষ্য রোহিঙ্গা ও অন্যান্য মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসন নিয়ে সরাসরি আলোচনা করা এবং একটি বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করা।
গত জুলাইয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছিলেন, মিয়ানমার ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে পর্যায়ক্রমে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। মালয়েশিয়া এ উদ্যোগের প্রথম ধাপে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিয়ানমারের নাগরিককে স্বেচ্ছায় ফেরানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ১ হাজার ৪৭৬ জনকে ২৯ সেপ্টেম্বর ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে এই প্রত্যাবাসন উদ্যোগ নিয়ে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন উদ্বেগ জানিয়েছে। ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় তাদের কোনো ভূমিকা নেই এবং মিয়ানমারে চলমান সংঘাত ও সহিংসতার কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সংস্থাটির মতে, প্রত্যাবাসন হলে তা স্বেচ্ছায়, অবগত সম্মতির ভিত্তিতে এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে হওয়া উচিত।
ইউএনএইচসিআরের সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি শেষে মালয়েশিয়ায় সংস্থাটির নিবন্ধিত শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার ৬০০। এর মধ্যে মিয়ানমারের নাগরিক প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮২৪ জন এবং রোহিঙ্গা ১ লাখ ২৬ হাজার ১৪৪ জন।
মালয়েশিয়ায় শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য আলাদা জাতীয় আইনি কাঠামো না থাকায় তাদের নিবন্ধন, নথিপত্র ও শরণার্থী মর্যাদা নির্ধারণে ইউএনএইচসিআর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আনোয়ার বলেন, মিয়ানমার একসঙ্গে এত মানুষকে ফিরিয়ে নিতে না পারলে ধাপে ধাপে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তবে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের একটি মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী। ২০১৭ সালে দেশটির সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নের পর বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেয়। মালয়েশিয়াতেও তাদের একটি বড় জনগোষ্ঠী বসবাস করছে।
এখন মিয়ানমারের সঙ্গে মালয়েশিয়ার কূটনৈতিক আলোচনা কতটা এগোয় এবং প্রত্যাবাসন কতটা নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলকভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


