সুগন্ধার ভাঙনে সর্বস্ব হারানোর শঙ্কায় নদীপাড়ের মানুষ

দেশজুড়ে
সুগন্ধার ভাঙনে সর্বস্ব হারানোর শঙ্কায় নদীপাড়ের মানুষ

ছবি: সংগৃহীত

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বরিশালের বাবুগঞ্জ বাজারসংলগ্ন সুগন্ধা নদীর খেয়াঘাট এলাকায় আকস্মিক নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে শুরু হওয়া ভাঙনে ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ গজ এলাকার নদীতীর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কবলে পড়ে একটি পুরনো মসজিদ, খেয়াঘাটের গণশৌচাগার, দুটি বসতভিটা, দুটি দোকানসহ বেশ কিছু গাছপালা ও স্থাপনা নদীতে চলে গেছে।

ভাঙন থামার কোনো লক্ষণ না থাকায় আতঙ্কে রয়েছেন নদীতীরবর্তী বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালেও নদীর পাড়ে একের পর এক ধস নামতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের বাবুগঞ্জ বাজারসংলগ্ন সুগন্ধা নদীর তীরে বিস্তৃত এলাকায় ভাঙন চলছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে নবনির্মিত খেয়াঘাট জামে মসজিদ, একাধিক দোকান এবং বাবুগঞ্জ-কেদারপুর খেয়াঘাটসংলগ্ন সংযোগ সড়ক। একই সঙ্গে ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পন্টুন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

স্থানীয়রা বলছেন, ভাঙনের গতি দ্রুত বাড়ছে। এখনই কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে অল্প সময়ের মধ্যে আরও বসতবাড়ি, দোকানপাট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। এমনকি শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বাবুগঞ্জ বাজারের বড় একটি অংশও হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয়রা জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে বছরের পর বছর বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিভিন্ন সময়ে জিওব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকায় পরবর্তী সময়ে আবারও নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে মানুষের ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও সম্পদ।

স্থানীয় বাসিন্দা বিপ্লব মিস্ত্রী বলেন, বছরের পর বছর বাবুগঞ্জ বাজার ও আশপাশের বসতবাড়ি নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। অনেক মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। এবারও ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বাজার ও বসতবাড়ি রক্ষায় দ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ডকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিষয়টি জানানো হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

এদিকে ভাঙনের খবর পেয়ে শুক্রবার রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বিএনপির বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ও রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আরিফুর রহমান শিমুল সিকদার। তিনি জানান, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের নির্দেশনায় তিনি ঘটনাস্থলে যান।

শিমুল সিকদার বলেন, মানুষের ঘরবাড়ি ও শেষ সম্বল নদীগর্ভে চলে যাওয়ার পর ব্যবস্থা নিলে সেই ক্ষতি আর পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বাবুগঞ্জ বাজার রক্ষায় এখনই জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সংসদ সদস্যের বরাত দিয়ে শিমুল সিকদার বলেন, বাবুগঞ্জ বাজার রক্ষায় একটি প্রকল্প পানি উন্নয়ন বোর্ডে জমা দেওয়া আছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে ওই প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সুগন্ধা নদীর ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে ভাঙন নবনির্মিত মসজিদ, দোকানপাট, খেয়াঘাটের পন্টুন ও সংযোগ সড়কের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় পুরো এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন তারা।