মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ইরানের পাশে চীন, যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর বার্তা
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নীতির বিরোধিতা আরও স্পষ্ট করেছে চীন। বেইজিং বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন বা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া আরোপ করা একতরফা নিষেধাজ্ঞার তারা দৃঢ়ভাবে বিরোধী।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান-সংক্রান্ত ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র একাধিক চীনা প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। বেইজিং এসব পদক্ষেপে ‘তীব্র অসন্তোষ’ প্রকাশ করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে চীনা প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের বৈধ অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে দেশটি।
চীনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞা বিভিন্ন দেশের স্বাভাবিক বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে বাধাগ্রস্ত করছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীল সরবরাহব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ ধরনের পদক্ষেপ বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।
এদিকে ইরানের অস্ত্র সংগ্রহে সহায়তার অভিযোগে ২৯ সেপ্টেম্বর ১৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাশিয়া, চীন, হংকং ও পাকিস্তানভিত্তিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ওয়াশিংটনের ভাষ্য, ইরানের অস্ত্র কর্মসূচিতে সহায়তাকারীদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতেই এ পদক্ষেপ।
এর ফলে ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের অবস্থানগত দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তেহরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে চীন এসব একতরফা পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে এবং নিজেদের প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষার কথা বলছে।
তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে দুই দেশ প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার করে পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক কমানোর কাঠামো নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে। ফলে ইরান ইস্যুতে মতবিরোধ থাকলেও বৃহত্তর চীন-মার্কিন সম্পর্কের অন্য ক্ষেত্রে আলোচনা চালু রয়েছে।
ইরানকে ঘিরে নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও অস্ত্র সরবরাহের প্রশ্নে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের এই মতপার্থক্য আগামী দিনগুলোতে দেশ দুটির কূটনৈতিক সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।


