তৃতীয় দিনেও উত্তাল দিল্লি-মুম্বাই, বিক্ষোভে হাজারো মানুষ

তৃতীয় দিনেও উত্তাল দিল্লি-মুম্বাই, বিক্ষোভে হাজারো মানুষ
৫ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন হাজারো তরুণ ও বিরোধী দলের নেতা-কর্মী-সমর্থক। ভোটার তালিকা সংশোধনে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুক্রবার শুরু হওয়া আন্দোলন রোববার মুম্বাই ও নয়াদিল্লিতে ছড়িয়ে পড়ে।

রোববার মুম্বাইয়ে বড় মিছিলের নেতৃত্ব দেন বিরোধী নেতা রাজ ঠাকরে ও উদ্ধব ঠাকরে। জাতীয় পতাকা হাতে মিছিলকারীরা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান।

রাজ ঠাকরে বলেন, কারা ক্ষমতায় থাকবে আর কারা বিরোধী দলে থাকবে—সেই সিদ্ধান্ত জনগণের, নির্বাচন কমিশনের নয়। ক্ষমতাসীনদের কর্মকাণ্ডে মানুষ ক্ষুব্ধ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

অন্যদিকে, নয়াদিল্লিতেও সন্ধ্যায় বিপুলসংখ্যক মানুষ বিক্ষোভে জড়ো হন। রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য অনুযায়ী, আগের দুই দিনের মতো রোববারও ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। গত দুই দিনে রাজধানীতে বিক্ষোভ ঠেকাতে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং কয়েকজনের বিরুদ্ধে গণজমায়েত নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের অভিযোগে মামলা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দেশজুড়ে ভোটার তালিকা যাচাই ও সংশোধনের প্রক্রিয়ায় লাখ লাখ যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপিকে নির্বাচনী সুবিধা দিতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য হলো দ্বৈত নাম, মৃত ব্যক্তি ও অন্যান্য অযোগ্য ভোটারের নাম বাদ দিয়ে তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করা। ভুলবশত কোনো যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়লে তা পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিরোধী দলগুলোর জোট মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন অভিমুখে মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তরুণদের নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টিও ১০ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে বড় সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে।

জ্ঞানেশ কুমার এখনো তাঁর পদত্যাগের দাবি বা চলমান বিক্ষোভ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।