বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে আবারও ঊর্ধ্বগতি
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে তেল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির নতুন আশঙ্কার পাশাপাশি শেয়ার ও বন্ডবাজারেও বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৩ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে ৯২ দশমিক ৭৫ ডলারে পৌঁছায়।
তেলের দাম বাড়ার পেছনে অন্যতম কারণ মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ। হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা বেড়ে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল কমেছে। গত সপ্তাহে হরমুজ ঘিরে ট্যাংকারে হামলার সংখ্যা যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। বুধবার কাতারের উত্তর উপকূলের কাছে একটি ট্যাংকারে একাধিক প্রজেক্টাইল হামলার ঘটনাও ঘটে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলেও উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ক্রান্তীয় ঝড় ইসাইয়াস শক্তিশালী হয়ে মৌসুমের প্রথম হারিকেনে পরিণত হওয়ায় শেল ও শেভরন উপকূলীয় এলাকায় উৎপাদন কার্যক্রম কমিয়ে দিয়েছে। ঝড়টি শুক্রবার বা শনিবার স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।
তেলের বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়ে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের খবর প্রকাশের পর। দ্য আটলান্টিকের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার বিভিন্ন পরিকল্পনা তৈরির জন্য পেন্টাগনকে নির্দেশ দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ আরও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো। সাম্প্রতিক হামলার কারণে ওই পথ দিয়ে তেল পরিবহনও কমেছে।
জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থবাজারেও। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা জোরালো হওয়ায় বিভিন্ন দেশের সরকারি বন্ডের সুদহার বেড়েছে। যুক্তরাজ্যের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদহার ৫ দশমিক ৫১৫ শতাংশে ওঠে, যা ২০০৭ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ।
একইভাবে ফ্রান্সের ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদহার ৪ দশমিক ৯৩১ শতাংশ এবং জার্মানির ৩ দশমিক ৫০৪ শতাংশে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহারও বেড়ে ৫ দশমিক ৩৩১ শতাংশ হয়েছে।
বিশ্বের শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই সূচক ১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। ইউরোপের স্টক্স ইউরোপ ৬০০ সূচকও প্রায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ সূচক শুরুর দিকে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে যায়।
এদিকে জ্বালানি ব্যয় বাড়ার প্রভাব পড়ছে পরিবহন খাতেও। ডেনমার্কের শিপিং কোম্পানি মার্স্ক জরুরি জ্বালানি সারচার্জ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। ফলে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি বৈশ্বিক পণ্য পরিবহন ও মূল্যস্ফীতির ওপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে।


