দেশে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে : খাদ্যমন্ত্রী

জাতীয়
দেশে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে : খাদ্যমন্ত্রী
১১ অক্টোবর ২০২৬

দেশে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। ফলে আসন্ন রমজানে খাদ্য সরবরাহে বড় ধরনের সংকট হবে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম।

শনিবার (১০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেটি ও সাইলো পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। পরে তিনি নগরীর দেওয়ানহাট সিএসডির গুদাম পরিদর্শন করেন এবং হালিশহর সিএসডির সম্মেলনকক্ষ উদ্বোধন করেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে খাদ্যের কোনো ঘাটতি নেই। চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। জনগণের কাছে সময়মতো নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দেওয়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে খাদ্য সংরক্ষণ, মজুত ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহব্যবস্থা আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

রমজানে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, এ সময়ের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে। পর্যাপ্ত মজুত থাকায় সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই। জনগণের ক্রয়ক্ষমতা ও স্বার্থ বিবেচনায় রেখে সুলভ মূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সংকটসহ বিভিন্ন কারণে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হতে পারে উল্লেখ করে আফরোজা খানম বলেন, দেশের বাজারে সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

খাদ্য আমদানি ও সরবরাহব্যবস্থা সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, আমদানি প্রক্রিয়ার বিদ্যমান জটিলতা নিরসনে কাজ চলছে। আন্তর্জাতিক উৎস থেকে খাদ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খাদ্য বিভাগের জনবলসংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভাগের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে জনবলসংকট নিরসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগলেও সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রাম সাইলো পরিদর্শনের বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে বিদ্যমান অবকাঠামোর কার্যকারিতা, প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং খাদ্য সংরক্ষণব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত ও সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত স্থাপনাগুলোর কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার করা গেলে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্য সংরক্ষণ সক্ষমতাও বাড়বে।

পরিদর্শনকালে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।