আমার আটটি নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল’: আক্ষেপ

আমার আটটি নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল’: আক্ষেপ
১১ অক্টোবর ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাইয়ের সমালোচনা করেছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, আটটি যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্বের জন্য তাঁর আটটি নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিল্লাইকে নিয়ে অবজ্ঞাসূচক মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, ‘আসলে, আমার জানামতে, ইসরায়েলের প্রতি তাঁর স্পষ্ট বিদ্বেষ ছাড়া তাঁর কথা আর কেউ কখনো শোনেনি। ওই নারী আসলে কী করেছেন, তা আমার জানা নেই।’

নিজের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি আটটি যুদ্ধ থামিয়েছেন। অথচ নাভি পিল্লাইয়ের অবদান বলতে তিনি শুধু ইসরায়েলের প্রতি বিদ্বেষকেই উল্লেখ করেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দেওয়া দুটি দীর্ঘ পোস্টে এসব মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

আটটি সংঘাত থামানোর দাবি ট্রাম্পের

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে যেসব সংঘাত নিরসনের কৃতিত্ব দাবি করেছেন, সেগুলো হলো—কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড, কসোভো ও সার্বিয়া, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো ও রুয়ান্ডা, পাকিস্তান ও ভারত, ইসরায়েল ও ইরান, মিশর ও ইথিওপিয়া, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান এবং ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার সংঘাত।

তিনি বলেন, ‘বাস্তবে, আমার কেবল একটি নয়, বরং আটটি নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল।’

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সংঘাত নিরসনের বিষয়টি নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার জন্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, যেসব দেশের সংঘাত নিরসনে তিনি সহায়তা করেছেন, সেসব দেশের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীরা নোবেল কমিটির কাছে তাঁর পক্ষে সুপারিশপত্র পাঠিয়েছিলেন।

পাকিস্তানের সমর্থনের কথা তুলে ধরলেন ট্রাম্প

নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ট্রাম্পের প্রার্থিতাকে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানিয়েছিল। মিশরে অনুষ্ঠিত গাজা শান্তি সম্মেলনের সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছিলেন, ভারত-পাকিস্তান সংঘাত থামানোর জন্য ট্রাম্পের নাম সুপারিশ করার পর গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার অবদানের জন্যও তাঁর নাম পুনরায় সুপারিশ করতে চান তিনি।

এ প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, ‘অথচ, এত কিছুর পরেও আমি নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলাম না। কী আশ্চর্য!’

নিজের পোস্টে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, সদস্যদেশগুলোর মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর মাধ্যমে তিনি আরও শক্তিশালী জোট ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর মতে, এ পদক্ষেপও যুদ্ধ প্রতিরোধে সহায়ক হয়েছে।

নোবেল পুরস্কারের মর্যাদা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য

ট্রাম্পের একটি পোস্টে নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার খবরের সঙ্গে নাভি পিল্লাইয়ের ছবিও যুক্ত ছিল। নিজের বিভিন্ন অবদানের কথা তুলে ধরার পর তিনি নোবেল পুরস্কারের মর্যাদা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

ট্রাম্পের মন্তব্য, ‘গণতন্ত্রবিরোধী ও সভ্যতার শত্রু—এমন কিছু উগ্র মতাদর্শী গোষ্ঠীর কারণে নোবেল শান্তি পুরস্কার চিরতরে তার মর্যাদা হারিয়েছে!’

নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়া নিয়ে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পাশাপাশি তাঁর দাবি করা সংঘাত নিরসনের কৃতিত্ব এবং নাভি পিল্লাইয়ের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।