অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড
সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখার তাত্ত্বিক ভিত্তি গঠনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই অর্থনীতিবিদ রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতিকে আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রে তাঁদের গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। <Cite refs={[“turn860296news12″,”turn860296news13”]}/>
সোমবার (১২ অক্টোবর) সুইডেনের স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস তাঁদের নাম ঘোষণা করে।
রবার্ট ই. হল যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। ১৯৪৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এই অর্থনীতিবিদ সামষ্টিক অর্থনীতি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন। অন্যদিকে, ১৯৫৫ সালে জন্ম নেওয়া মাইকেল উডফোর্ড কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মুদ্রানীতির তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে তাঁর গবেষণা বিশেষভাবে পরিচিত।
‘ম্যাক্রোইকোনমিক স্থিতিশীলতার ক্ষুদ্র অর্থনৈতিক ভিত্তি’ নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে তাঁরা দেখিয়েছেন, পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত কীভাবে সামগ্রিক অর্থনীতির গতিপথকে প্রভাবিত করে। পরিবারের সঞ্চয় ও ব্যয়ের সিদ্ধান্ত, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পণ্যের মূল্য নির্ধারণ এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের প্রত্যাশা—এসব বিষয় তাঁদের গবেষণায় গুরুত্ব পেয়েছে।
অর্থনীতিতে কখনো মন্দা দেখা দেয়, আবার কখনো দ্রুত প্রবৃদ্ধি হয়। এসব ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে সুদের হার, সরকারি ব্যয় ও করনীতির মতো পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মন্দার সময় সুদের হার কমানো বা সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনার চেষ্টা করা হয়। অন্যদিকে, মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেলে সুদের হার বাড়ানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে চাহিদা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
১৯৭০-এর দশকে তেল সংকটের পর অর্থনৈতিক মন্দা, উচ্চ বেকারত্ব ও মূল্যস্ফীতি প্রচলিত অর্থনৈতিক নীতির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করে। এ প্রেক্ষাপটে অর্থনীতির ওঠানামা মোকাবিলা এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য আরও কার্যকর তাত্ত্বিক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে।
হল ও উডফোর্ডের গবেষণায় অর্থনৈতিক নীতি ঘোষণার পাশাপাশি মানুষের প্রত্যাশা ও সিদ্ধান্তের ওপর তার প্রভাবও গুরুত্ব পেয়েছে। সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভবিষ্যতে কী ধরনের নীতি গ্রহণ করতে পারে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিলে পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তাদের ব্যয়, সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে।
গবেষণার এই দৃষ্টিভঙ্গি নীতিনির্ধারকদের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করে। উপযুক্ত সময়ে সুদের হার ও সরকারি ব্যয়ের মতো নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার মাধ্যমে অর্থনীতির অস্থিরতা কমানো ও মন্দার প্রভাব সামাল দেওয়া সহজ হতে পারে।
২০২৬ সালের এই পুরস্কারের মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বোঝা এবং কার্যকর অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়নে ক্ষুদ্র অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত ও প্রত্যাশার ভূমিকার গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে।


