নির্বাচন কমিশনারকে জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারি রাহুল গান্ধীর

নির্বাচন কমিশনারকে জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারি রাহুল গান্ধীর

বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সমাবেশ। ছবি: এএফপি

২ নভেম্বর ২০২৬

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরিয়ে শেষ পর্যন্ত কারাগারে পাঠানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ও ভোটার তালিকায় কারসাজির মাধ্যমে ‘ভোট চুরি’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে ওই নির্বাচনকে অবৈধ দাবি করেছেন তিনি।

রোববার (১ নভেম্বর) দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সমাবেশে হিন্দিতে দেওয়া বক্তব্যে রাহুল এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এই ভোট চুরি সাধারণ কোনো চুরি নয়; বরং ভারতের প্রতিটি মানুষের কণ্ঠস্বর কেড়ে নেওয়ার শামিল। একে রাষ্ট্রদ্রোহ বলা হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

রাহুলের অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার না থাকলে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী এবং অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারতেন না। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ইভিএম ও ভোটার তালিকায় কারসাজি করে ভোট নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

কংগ্রেস নেতা বলেন, নির্বাচনের পর ভোটার তালিকা থেকে ১৫ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ ওই নির্বাচনে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ ও বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। এ কারণে নির্বাচনটি অবৈধ ছিল বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, নির্বাচন কমিশনের তথ্যেই এর প্রমাণ রয়েছে।

২০২০-২১ সালে করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাব নিয়ে নিজের আগের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রাহুল বলেন, তিনি যা বলেন, তা শেষ পর্যন্ত সত্য প্রমাণিত হয়।

ভারতের নাগরিক ও তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে সরানো হবে এবং তাকে কারাগারে যেতে হবে।

বিজেপির আদর্শিক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সমালোচনা করে রাহুল অভিযোগ করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে তদন্তকারী সংস্থাসহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে সংগঠনটি। এর ফলে কৃষক, শ্রমিক ও তরুণেরা নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

হিন্দু পুরাণের উদাহরণ টেনে নিজের কল্পিত ভারতের চিত্র তুলে ধরেন রাহুল। তিনি বলেন, শিবের বিয়ের শোভাযাত্রায় যে কেউ অংশ নিতে পারে, কাউকে বাধা দেওয়া হয় না। তিনি এমন একটি ভারত গড়ার প্রত্যাশা করেন, যেখানে সবার অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে।

রাহুল আরও বলেন, গণতন্ত্র ও সংবিধানের অবসান হতে দেওয়া হবে না। অর্থের জোরে কেউ সংবিধানের চেয়ে বড় হতে পারে না। বিজেপি অর্থের প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সমাবেশে রাহুলের আগে বক্তব্য দেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের পাশাপাশি মহারাষ্ট্র, বিহার ও উত্তর প্রদেশের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারও ‘ভোট চুরি’র মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে।

খাড়গে বলেন, এসব সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি; বরং নিজেদের মতো করে ক্ষমতায় এসেছে। তাদের সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় থাকলে গণতন্ত্র টিকে থাকবে না।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও।