পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে পাসপোর্ট নয়, প্রত্যর্পণ চুক্তিই যথেষ্ট

জাতীয়
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে পাসপোর্ট নয়, প্রত্যর্পণ চুক্তিই যথেষ্ট
৫ নভেম্বর ২০২৬

পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে কোনো সাধারণ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনাকে সাধারণ যাত্রী বা বাণিজ্যিক ভ্রমণকারী হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি এবং বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে বিদায় জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি একজন পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তাকে দেশে ফেরাতে সাধারণ পাসপোর্ট কিংবা ট্রাভেল পাস দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কার্যকর প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে, যার আওতায় অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের হস্তান্তরের ব্যবস্থা আছে। তাই পাসপোর্ট ইস্যুর মাধ্যমে নয়, বরং বিচারিক প্রক্রিয়া ও প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

হুমায়ুন কবির বলেন, একজন পলাতক অপরাধীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পাসপোর্টের প্রয়োজন হয় না। এ ক্ষেত্রে বিচারিক প্রক্রিয়া, বিচারিক পরোয়ানা এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তিই গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনাকে সাধারণ বাণিজ্যিক যাত্রীর মতো বিবেচনা করে পাসপোর্টের মাধ্যমে দেশে আসার সুযোগ দেওয়ার প্রশ্ন নেই। সরকারের অবস্থান হলো, ভারতের কাছ থেকে তাকে হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনা।

তিনি আরও বলেন, হাজার হাজার মানুষ হত্যার অভিযোগে পালিয়ে যাওয়া একজন ব্যক্তিকে স্বাভাবিক ভ্রমণকারীর পর্যায়ে দেখার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ তার হস্তান্তর চায় এবং ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আগ্রহী।

চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়

এদিকে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে সরকার আগ্রহী।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি মালয়েশিয়া সফরের পর চীন সফর করেছেন। ওই সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত ও সামগ্রিক সহযোগিতার নতুন পর্যায়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। পারস্পরিক সমৃদ্ধি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

হুমায়ুন কবির বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক শুধু সরকার থেকে সরকার পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়; দুই দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সফরের মধ্য দিয়ে দলীয় পর্যায়ের যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সফরে দুই দেশের রাজনৈতিক দল কীভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও চীন সরকারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ত্রিপক্ষীয় করিডোরে আগ্রহ, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের তাগিদ

বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার পরিকল্পিত ত্রিপক্ষীয় করিডোর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত উদ্যোগটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ সরকার। এটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে যোগাযোগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং মানুষের চলাচল বাড়বে। পণ্য পরিবহন ও যাতায়াত সহজ হলে পুরো অঞ্চল অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হতে পারে।

তিনি বলেন, করিডোরটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। তবে উদ্যোগটি কার্যকর করার আগে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। রোহিঙ্গা ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, চীনের আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয়, কৌশলগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে। পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আগামী দিনে আরও গতিশীল হবে।