অন্যের ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল থেকে মুক্তির দোয়া

ধর্ম
অন্যের ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল থেকে মুক্তির দোয়া
৫ নভেম্বর ২০২৬

জীবনের নানা পর্যায়ে মানুষ বিপদ, প্রতিকূলতা, বিরোধিতা কিংবা অন্যের ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বিচলিত না হয়ে ধৈর্য ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রাখার শিক্ষা দিয়েছে ইসলাম। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে এমন কিছু দোয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে বিপদ-আপদ ও মানুষের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় ও সাহায্য চাওয়া যায়।

ইসলামি শিক্ষায় তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর নির্ভরশীলতা মুমিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গুণ। নবী-রাসুলদের জীবনেও বিপদ ও বিরোধিতার সময়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য তিনটি দোয়া হলো—

১. অসহায় অবস্থায় আল্লাহর সাহায্য চাওয়ার দোয়া

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

মানুষ যখন কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে অসহায় হয়ে পড়ে এবং নিজের সামর্থ্যে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে যায়, তখন মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার একটি দোয়া রয়েছে পবিত্র কুরআনে। হজরত নুহ (আ.) নিজ সম্প্রদায়ের অবাধ্যতা ও বিরোধিতার মুখে এভাবেই রবের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেছিলেন।

দোয়াটি হলো—

رَبِّ اَنِّىْ مَغْلُوْبٌ فَانْتَصِر

উচ্চারণ: রব্বি আন্নি মাগলুবুন ফানতাসির।

অর্থ: হে আমার রব! আমি পরাভূত, অতএব তুমি আমাকে সাহায্য করো।

(সুরা আল-কামার, আয়াত: ১০)

এই দোয়ায় নিজের অসহায়ত্বের কথা আল্লাহর কাছে তুলে ধরে তাঁর সাহায্য কামনা করা হয়। কঠিন পরিস্থিতিতে আল্লাহর রহমত ও সাহায্যের প্রত্যাশায় মুমিন এ দোয়া পাঠ করতে পারেন।

২. শত্রুর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়ার দোয়া

কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হলে আল্লাহর কাছে তাদের অনিষ্ট থেকে নিরাপত্তা চাওয়া যায়। এ প্রসঙ্গে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

দোয়াটি হলো—

اللَّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُورِهِمْ وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شُرُورِهِمْ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাজআলুকা ফি নুহুরিহিম, ওয়া নাউজুবিকা মিন শুরুরিহিম।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমরা আপনাকে তাদের মোকাবিলায় রাখছি এবং তাদের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৫৩৭)

এ দোয়ার মাধ্যমে বান্দা শত্রুর অনিষ্ট ও সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। বিপদ কিংবা নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে এ দোয়া পড়া যায়।

৩. কঠিন পরিস্থিতিতে ভরসার দোয়া

বিপদের সময় সাহস ও মানসিক দৃঢ়তা ধরে রাখতে ইসলামে আল্লাহর ওপর পূর্ণ নির্ভরশীলতার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বাক্য হলো—

حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ

উচ্চারণ: হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল।

অর্থ: আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, আর তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

(সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৭৩)

হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, হজরত ইবরাহিম (আ.)-কে আগুনে নিক্ষেপ করার সময় তিনি এ বাক্যটি পাঠ করেছিলেন। একইভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সময়েও বিপদের মুখে মুমিনরা এ বাক্যের মাধ্যমে আল্লাহর ওপর নির্ভরশীলতার প্রকাশ করেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৫৬৩)

আল্লাহর ওপর ভরসার পাশাপাশি সতর্কতাও জরুরি

ইসলাম মানুষকে বিপদ ও ষড়যন্ত্রের মুখে ধৈর্য ধারণ, বিচক্ষণতা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের শিক্ষা দেয়। শুধু দোয়া পাঠ করাই নয়, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া, নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সচেতন থাকাও গুরুত্বপূর্ণ।

মুমিনের বিশ্বাস, মানুষের পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রের ঊর্ধ্বে মহান আল্লাহর ক্ষমতা। তাই কঠিন সময়ে হতাশ না হয়ে তাঁর কাছে সাহায্য চাইতে হবে এবং সব অবস্থায় তাঁর ওপর ভরসা রাখতে হবে।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সব ধরনের অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন এবং বিপদে ধৈর্য ধারণ ও তাঁর ওপর অবিচল আস্থা রাখার তৌফিক দান করুন। আমিন।