জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্য ও ডাকাতির অভিযোগে মামলা, আদালতে শুনানি অপেক্ষমাণ

অপরাধ
জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্য ও ডাকাতির অভিযোগে মামলা, আদালতে শুনানি অপেক্ষমাণ

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের

নিউজ ডেস্ক
২৪ মে ২০২৫

জাতীয় পার্টির (জাপা) শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও ডাকাতির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এবং সাবেক গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান হারুন অর রশিদসহ মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শনিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেন জাতীয় পার্টির সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মানবাধিকারকর্মী নাজমিন সুলতানা তুলি। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগটি পরবর্তী আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।

✅ অভিযোগের সারসংক্ষেপ:

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-৪ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন নাজমিন সুলতানা। তাকে মনোনয়ন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জিএম কাদেরের পক্ষ থেকে ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা না দেওয়ায় তাকে দলীয়ভাবে অপদস্থ করা হয় এবং প্রতিশোধ নিতে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তার বাসায় হামলা চালায়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

হামলায় বাদীর বাসার দরজা ভেঙে প্রবেশ করে আসবাবপত্র, সাত ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা, ল্যাপটপ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুট করার অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিলে বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ রয়েছে।

🧾 আসামিদের তালিকা:

  • জিএম কাদের – চেয়ারম্যান, জাতীয় পার্টি

  • মুজিবুল হক চুন্নু – মহাসচিব

  • শেরিফা কাদের – স্ত্রী, জিএম কাদের

  • রেজাউল ইসলাম – অতিরিক্ত মহাসচিব

  • নেওয়াজ আলী ভূঁইয়া – কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য

  • হারুন অর রশিদ – সাবেক ডিবি প্রধান

  • আকরাম – সাবেক ডিসি, গোয়েন্দা উত্তরা

  • নাজমুল – সাবেক এডিসি, গোয়েন্দা উত্তরা

  • পবিত্র সরকার – এসআই, বিমানবন্দর জোন

  • মো. সাঈদুল ইসলাম – মহানগর উত্তর, জাতীয় পার্টি

🗣️ বাদীর বক্তব্য:

নাজমিন সুলতানা বলেন, “দীর্ঘদিন আমি ট্রমায় ছিলাম। রাজনীতিতে আর্থিক লেনদেন, প্রতারণা এবং ভয়ভীতির যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে—এটি বন্ধ হওয়া দরকার। আমি ন্যায়ের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।”

⚖️ পরবর্তী পদক্ষেপ:

আদালত বাদীর বক্তব্য গ্রহণ করে অভিযোগটি পরবর্তী শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত রেখেছেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পাবে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


📌 বিশ্লেষণ:
এই মামলার প্রভাব জাতীয় রাজনীতির ভেতরে দলীয় স্বচ্ছতা ও মনোনয়ন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। একইসঙ্গে প্রশাসনিক কিছু সাবেক কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ বিষয়টিকে আরও গভীর ও জটিল করে তুলেছে।