শেয়ারবাজারে ধস: করোনাকেও ছাপিয়ে গেছে আস্থাহীনতা, বিনিয়োগকারীরা দিশেহারা
বাংলাদেশের শেয়ারবাজার একের পর এক ধসের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ দরপতনের সময় পার করছে। টানা তিন কার্যদিবস ধরে সূচকের পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার চরম সংকট তৈরি করেছে। অনেকেই বলছেন, করোনা মহামারিকালেও বাজারে এমন নৈরাশ্য তৈরি হয়নি।
সোমবার (২৬ মে) দিনশেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স নেমে এসেছে ৪,৭১৯ পয়েন্টে, যা ২০২০ সালের আগস্টের পর সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ডিএসই-৩০ সূচক কমেছে ৪ পয়েন্ট। যদিও ডিএসই শরিয়াহ সূচক অল্প বাড়লেও তা সামগ্রিক চিত্র বদলাতে পারেনি।
বিনিয়োগকারী মশিউর রহমান বলেন,
“আমাদের মূলধন অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে। প্রতিদিনই ক্ষতির মুখে পড়ছি। সরকার বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা কেউই দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিচ্ছে না।”
আরেক বিনিয়োগকারী আরিফুল ইসলাম বলেন,
“শেয়ারবাজার ধ্বংসের পথে। অথচ অর্থনীতির অন্যান্য সূচক ভালো, কিন্তু বাজারের জন্য কেউ ভাবছে না।”
ডিএসইতে আজ লেনদেন হয়েছে মাত্র ২৮২ কোটি টাকা, যা টানা ১১ কার্যদিবস ৩০০ কোটির নিচে অবস্থান করছে। সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে স্কয়ার ফার্মা (১১ কোটি টাকা), এরপর বারাকা পতেঙ্গা ও ব্র্যাক ব্যাংক।
📌 কোম্পানির পারফরম্যান্স:
-
দাম বেড়েছে: ১৪৮টি কোম্পানির
-
দাম কমেছে: ১৬৮টি
-
অপরিবর্তিত: ৭৭টি
‘জেড’ গ্রুপের বেশ কিছু শেয়ার দাম বেড়েছে, যা বাজারের অস্বাভাবিক আচরণও নির্দেশ করে।
সিএসইর সার্বিক সূচক ৫২ পয়েন্ট কমেছে। লেনদেন বেড়ে হয়েছে ১১.৭৩ কোটি টাকা, তবে এটি বাজারের আকার অনুযায়ী অত্যন্ত কম।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন,
-
প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অনুপস্থিতি,
-
নীতিগত অনিশ্চয়তা
-
ও দীর্ঘদিন ধরে বাজারে পুঁজির প্রবাহ না থাকায়
বিনিয়োগকারীদের আস্থা ভেঙে পড়েছে।
তারা বলছেন, বাজারে অবমূল্যায়িত শেয়ার থাকলেও বিনিয়োগকারীরা সাহস পাচ্ছেন না। জরুরি ভিত্তিতে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নীতি সংশোধন, বিনিয়োগ সহায়তা তহবিল ও সঠিক মনিটরিং দরকার।


