যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে তিন শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক মঞ্চে মাইক্রোসফট অফিস চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ
তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে দক্ষতার অনন্য স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন তিন মেধাবী শিক্ষার্থী। তারা অংশ নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত মাইক্রোসফট অফিস স্পেশালিস্ট (MOS) ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫-এ।
ভিটিউটর আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী হয়েছেন—
-
মাইক্রোসফট ওয়ার্ড: আমিনুল ইসলাম, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি
-
মাইক্রোসফট এক্সেল: সামিন আল ফাত্তাহ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)
-
মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট: তাসিন আহমেদ, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)
তারা আগামী জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে সার্টিপোর্ট আয়োজিত ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেবেন, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সেরা তরুণ প্রযুক্তিবিদদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবেন।
শনিবার (২৪ মে) ঢাকার এআইইউবি ক্যাম্পাসে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ল্যাপটপ ও ২০ লাখ টাকার প্রতীকী চেক। আন্তর্জাতিক পর্বে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীরা যথাক্রমে ৮ হাজার, ৪ হাজার এবং ২ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার পাবেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কাজী মোশতাক জহির। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন:
-
এআইইউবি উপাচার্য ড. সাইফুল ইসলাম
-
বিইউপি চেয়ারম্যান উইং কমান্ডার ড. মাহমুদুল হাসান
-
দৈনিক যায়যায়দিনের যুগ্ম সম্পাদক মো. মাহমুদুজ্জামান
-
বারাকা শিকল বাহারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাঈম আহমেদ চৌধুরী
-
এআই সিস্টেমসের প্রধান নির্বাহী আরিফুল ইসলাম
-
ভিটিউটরের কো-ফাউন্ডার কাজী শামীম ও মুত্তাকী ফারুক
ভিটিউটর-এর আয়োজনে এ বছর প্রথমবারের মতো অলিম্পিয়াড ঘরানায় অনুষ্ঠিত হয় এই প্রতিযোগিতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট ওয়েস্ট, ইনডিপেনডেন্ট, ইউআইইউ, এআইইউবি ও বিইউপিতে আঞ্চলিক রাউন্ড শেষে চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে নির্বাচিত ৯৭ জন চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এর মধ্যে ৮৯ জন পেয়েছেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃত মাইক্রোসফট অফিস স্পেশালিস্ট সার্টিফিকেট।
👉 কাজী মোশতাক জহির বলেন,
“একসময় জনসংখ্যা ছিল বোঝা, আজ তা জনশক্তি। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে পাশে থাকবে।”
👉 মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান বলেন,
“তরুণদের সাহসী হয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে নেতৃত্ব দিতে হবে।”
👉 কাজী শামীম ও মুত্তাকী ফারুক বলেন,
“এটি কেবল প্রতিযোগিতা নয়, বরং প্রযুক্তিনির্ভর আগামীর বাংলাদেশ গড়ার একটি মঞ্চ। আমরা প্রতিবছর এ আয়োজন চালিয়ে যেতে চাই।”
এই তিন শিক্ষার্থী বিশ্বমঞ্চে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণদের মেধা, প্রযুক্তি দক্ষতা ও সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলেই বিশ্বাস করছেন আয়োজক ও সংশ্লিষ্টরা।


