অভ্যন্তরীণ লুটপাট ও দুর্বল ব্যবস্থাপনায় বিপর্যস্ত ব্যাংক খাতকে ঘুরে দাঁড় করাতে উদ্যোগী সরকার

ছয় বেসরকারি ব্যাংক যাচ্ছে সরকারের অধীনে, আসছে খাতে বড় সংস্কার

ছয় বেসরকারি ব্যাংক যাচ্ছে সরকারের অধীনে, আসছে খাতে বড় সংস্কার

ছয় ব্যাংকের লোগো। ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক
২৭ মে ২০২৫

প্রতিবেদন:

দেশের আর্থিক খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার অবসান ঘটাতে বড় ধরনের সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার। প্রথম ধাপে ছয়টি বেসরকারি ব্যাংককে সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

সোমবার (২৬ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই এই ব্যাংকগুলোকে সরকারি মালিকানায় নেওয়া হবে, এবং প্রয়োজনীয় পুঁজিও পুনঃবিনিয়োগ করা হবে।

সরকারের অধীনে যাচ্ছে যেসব ব্যাংক:

গভর্নর মনসুর আরও জানান, এই ছয় ব্যাংকের পরে ধাপে ধাপে আরও ১৮টি বেসরকারি ব্যাংককে সংস্কারের আওতায় আনা হবে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

গভর্নরের বক্তব্য:

“গত দেড় দশকে ব্যাংক খাতে যে মাত্রায় অর্থ লোপাট ও অনিয়ম হয়েছে, তা ইতিহাসে বিরল। এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে খাতটিকে স্থিতিশীল করা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ানো।”

সংকটের পেছনের কারণ:

বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব, অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি, এবং দুর্বল নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর কারণে দেশের বহু ব্যাংক আজ প্রায় দেউলিয়া অবস্থায়। এমনকি একসময় লাভজনক থাকা ব্যাংকগুলোও এখন মারাত্মক অর্থ সংকটে।

সরকারের পরিকল্পনা:

  • সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া

  • পুঁজি পুনর্গঠন

  • ব্যবস্থাপনা পুনর্নির্মাণ

  • বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা

বিশ্লেষণ:

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের এই পদক্ষেপ ঝুঁকিপূর্ণ হলেও প্রয়োজনীয়। কারণ দুর্বল ব্যাংকগুলো সংস্কার না করলে তা গোটা আর্থিক খাতকেই হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে — পেশাদার ব্যবস্থাপনার নিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা।

এই সংস্কার কার্যক্রম যদি সময়মতো বাস্তবায়ন হয় এবং স্বচ্ছতার সাথে পরিচালিত হয়, তবে এটি দেশের আর্থিক খাতকে এক নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে পারে। তবে উল্টোটা হলে এর ফলাফল হতে পারে আরও ভয়াবহ।