মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে ১৩ ধাপ অগ্রগতি, আন্তর্জাতিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত

মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে ১৩ ধাপ অগ্রগতি, আন্তর্জাতিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত
নিউজ ডেস্ক
২৭ মে ২০২৫

আন্তর্জাতিক মানি লন্ডারিং ঝুঁকি সূচকে (ব্যাসেল এএমএল ইনডেক্স) ১৩ ধাপ উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের ব্যাসেল অ্যান্টি মানি লন্ডারিং ইনডেক্স অনুযায়ী, বাংলাদেশ এবার ৪৬তম স্থান থেকে এগিয়ে ৫৯তম অবস্থানে উঠে এসেছে। গত বছর এই সূচকে ৫ ধাপ উন্নতি করেছিল দেশ।

মঙ্গলবার (২৭ মে) বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

বিএফআইইউ প্রধান এ এফ এম শাহীনুল ইসলাম বলেন, “পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার জন্য বিএফআইইউ, আইনশৃঙ্খলা সংস্থা ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে। বিশ্বব্যাংকের StAR, যুক্তরাষ্ট্রের DoJ, IACCC, ICAR-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কারিগরি সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি আরও বলেন, বিদেশ থেকে অর্থ ফিরিয়ে আনা জটিল ও সময়সাপেক্ষ হলেও, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর একযোগে প্রচেষ্টায় ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া সম্ভব।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট ১৭,৩৪৫টি সন্দেহজনক লেনদেন বা কার্যক্রম (এসটিআর/এসএআর) প্রতিবেদন জমা পড়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২২.৯৬ শতাংশ বেশি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিল ১৪,১০৬টি।

গত পাঁচ বছরের তথ্য অনুযায়ী:

  • ২০২১-২২: ৮,৫৭১টি

  • ২০২০-২১: ৫,২৮০টি

  • ২০১৯-২০: ৩,৬৭৫টি

  • ২০১৮-১৯: ৩,৫৭৩টি

বিএফআইইউ বলছে, সন্দেহজনক লেনদেন বৃদ্ধির পেছনে রিপোর্টিং সংস্থাগুলোর সচেতনতা এবং তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক সূচকে উন্নতি মানে শুধু অবস্থানের উন্নয়ন নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা, আর্থিক গোয়েন্দা তৎপরতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক আস্থার প্রতিফলন।

বিএফআইইউ-এর সক্রিয়তা, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় এবং সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ফলে এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।