ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার নিবন্ধন শুরু

রাজধানী
ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার নিবন্ধন শুরু
৩ নভেম্বর ২০২৬

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে শুধু আবেদন করলেই নিবন্ধন পাওয়া যাবে না। নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী ই-রিকশা তৈরি করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনুমোদন বা ছাড়পত্র নিতে হবে। এরপর সরকারি বিধিমালার শর্ত পূরণ করে সিটি করপোরেশনে আবেদন জমা দিলে শুরু হবে নিবন্ধন প্রক্রিয়া।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ই-রিকশার নিবন্ধন, চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে এসব তথ্য জানান ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার থেকে ই-রিকশার নিবন্ধন আবেদন ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে। তবে এই ফরম চলাচলের অনুমতিপত্র নয়; এটি কেবল নিবন্ধনের আবেদনপত্র। আবেদনকারীদের নির্ধারিত শর্ত পূরণের পাশাপাশি বুয়েটের ছাড়পত্র নিয়ে আবেদন জমা দিতে হবে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে পর্যায়ক্রমে নিবন্ধন দেওয়া হবে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ই-রিকশা ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে আরও কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান প্রশাসক। তিনি বলেন, নির্ধারিত মডেলের ই-রিকশা তৈরি ও মেরামতের জন্য নির্দিষ্ট ওয়ার্কশপ ঠিক করে দেওয়া হবে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবহার বন্ধে ওয়ার্ড বা থানা পর্যায়ে নির্দিষ্ট চার্জিং স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

ই-রিকশার সংখ্যা ও চলাচল নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকাকে চারটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর সিটি করপোরেশন ও বাংলাদেশ পুলিশের যৌথ সভায় জোনগুলোর সীমানা এবং অঞ্চলভিত্তিক ই-রিকশার সম্ভাব্য সংখ্যা চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

একসঙ্গে সব ই-রিকশা বন্ধ না করে ধাপে ধাপে নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, প্রথম পর্যায়ে ৫০০, ১ হাজার কিংবা ২ হাজার—যতগুলো ই-রিকশা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করবে, সেগুলোকে পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনের অনুমোদন দেওয়া হবে।

ফরম বিতরণ ও সংগ্রহের নিয়ম

৩ নভেম্বর থেকে প্রতিটি ১০০ টাকা মূল্যে নিবন্ধন আবেদন ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নগর ভবন এবং ডিএসসিসির সব আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে ফরম সংগ্রহ করা যাবে। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচটি আবেদন ফরম নিতে পারবেন।

ই-রিকশাকে ঢাকা শহরের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে প্রশাসক এ সমস্যা সমাধানে নাগরিক, রিকশার মালিক ও চালক এবং গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।