সংগঠিত দাবি, ছন্দহীন নগর—সড়কে স্থবিরতা, প্রশাসনিক কার্যক্রমেও অচলাবস্থা

বিআইটি দাবিতে ময়মনসিংহে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, তিনটি মহাসড়কে তীব্র যানজট

দেশজুড়ে
বিআইটি দাবিতে ময়মনসিংহে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, তিনটি মহাসড়কে তীব্র যানজট
নিউজ ডেস্ক
৯ জুলাই ২০২৫

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি) গঠনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে কলেজসংলগ্ন রহমতপুর বাইপাস মোড়ে শুরু হয় এ অবরোধ কর্মসূচি। এতে ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ-জামালপুর এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এ সময় তারা ‘বিআইটি চাই’, ‘ঢাবির অধিভুক্তি বাতিল করো’সহ নানা স্লোগান দেয়। গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে তারা আন্দোলন চালিয়ে যায়।

গত ১৮ মে কলেজের সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী ধ্রুবজিৎ কর্মকারের আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে চলমান অ্যাকাডেমিক সিস্টেম বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। ঈদের পর ১৪ জুন ক্লাস শুরু হলেও শিক্ষার্থীরা তা বর্জন করে। ২৪ জুন থেকে তারা প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করে রাখে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৫ জুলাই থেকে শুরু হয় বিআইটি গঠনের দাবিতে এক দফা কর্মসূচি।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আল আমিন বলেন,

“দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি, কেউ গুরুত্ব দেয়নি। আমরা এই আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। ভোগান্তির জন্য দুঃখিত, তবে এই সমস্যার জন্য দায়ী কর্তৃপক্ষ।”

সড়কে আটকে পড়া যাত্রী আব্দুল হাই বলেন,

“দীর্ঘ সময় ধরে বাসে বসে আছি। অনেক অসুস্থ মানুষ, নারী ও শিশুও আছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত সমাধান বের করা।”

ট্রাকচালক নজরুল মিয়ার ভাষ্য,

“সবাই রাস্তা বন্ধ করে দাবি তোলে, কিন্তু আমাদের মতো শ্রমজীবী মানুষ যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা কেউ ভাবে না।”

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানার ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান,

“শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা চলছে। আমরা চাই দ্রুত অবরোধ প্রত্যাহার করে যান চলাচল স্বাভাবিক হোক।”

শিক্ষার্থীরা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো আশ্বাস আসেনি। সংকট সমাধানে আলোচনার উদ্যোগ কতটা দ্রুত হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।