বেনাপোলে নিরাপত্তাকর্মীদের চাকরি বাঁচাতে ঘুষ দাবির অভিযোগ, তদন্তে প্রশাসন
যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে চাকরি টিকিয়ে রাখতে নিরাপত্তাকর্মীদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান আল-আরাফাত সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেডের অপারেশনাল ম্যানেজার শামিম শিকদার।
বর্তমানে বন্দরে নিয়োজিত থাকা পিমা সিকিউরিটি সার্ভিসের ১২৯ জন নিরাপত্তাকর্মী অভিযোগ করেছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে সৎভাবে দায়িত্ব পালন করলেও নতুন কোম্পানিতে বহাল থাকতে ঘুষ দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
ঘুষ না দিলে চাকরি থাকবে না?
পিমা সিকিউরিটির কর্মীরা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, আগামী ৩০ জুলাই তাদের কোম্পানির কার্যক্রমের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নতুন নিয়োগ পাওয়া আল-আরাফাত কোম্পানি ১ আগস্ট থেকে কাজ শুরু করবে। এই পরিবর্তনের প্রাক্কালে শামিম শিকদার তাদেরকে জানিয়ে দেন, “চাকরি রাখতে হলে ৩০ হাজার টাকা দিতে হবে, আর নতুন যারা আসবে, তাদের দিতে হবে ৫০ হাজার।”
তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন বক্তব্যও উঠে এসেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী জানান,
“আল-আরাফাতের কেউ সরাসরি আমাদের কাছে ঘুষ চায়নি। পিমা সিকিউরিটির কয়েকজন কর্মকর্তা—কমান্ডার আল-আমিন ও সুপারভাইজার মনির আমাদের জানান, টাকা না দিলে নতুন কোম্পানিতে নেওয়া হবে না।”
আল-আরাফাতের দাবি: চক্রান্তের অংশ
অভিযোগ অস্বীকার করে আল-আরাফাত সার্ভিসের অপারেশনাল ম্যানেজার শামিম শিকদার বলেন,
“আমরা এখনো বন্দরের দায়িত্ব বুঝে নেইনি। বন্দরে কাজ শুরু করব ১ আগস্ট থেকে। এর আগে কেউ ঘুষ দাবি করলে, সেটা আমাদের প্রতিষ্ঠানের দায় নয়। পুরো বিষয়টি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
প্রশাসনের অবস্থান: তদন্ত শুরু
বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে বলে জানিয়েছে। উপ-পরিচালক মামুন কবীর তরফদার বলেন,
“নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কোম্পানির নামে ঘুষ দাবির অভিযোগ পেয়েছি। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি—দোষী প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘুষের সংস্কৃতি নাকি পুরনো চাপ?
নিম্ন আয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা বলছেন, এ ধরনের ঘুষের চাপ তাদের জন্য শুধু বেআইনি নয়, চরম মানবিক সংকটও।
“স্বল্প বেতনে পরিবার চালাই, সেখানে চাকরি রাখতে ঘুষ দেওয়ার কথা শুনলে হতাশ হয়ে যাই,” — বলেন এক কর্মী।


