টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত খুলনা

দেশজুড়ে
টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত খুলনা
নিউজ ডেস্ক
২৯ জুলাই ২০২৫

দুই দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে অচল হয়ে পড়েছে খুলনার স্বাভাবিক জনজীবন। রাস্তাঘাটে পানি জমে চলাচলে ভোগান্তি, কমেছে মার্কেট-বাজারের ক্রেতা, বন্ধ কিংবা দেরিতে খুলছে দোকানপাট। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক, ইজিবাইকচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পরিবহনশ্রমিকরা।

খুলনার আবহাওয়া অফিস জানায়, সোমবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৩৪ মিমি এবং মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আরও ৩৮ মিমি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই দিন বৃষ্টির এমন ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।

টানা বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। রিকশাচালক জামশেদ মিয়া জানান, “সোমবার থেইকা একটানা বৃষ্টি। সারা দিন রাস্তায় থাকলেও সেরকম ট্রিপ পাই নাই। কিন্তু একবেলা রিকশা না চালাইলে বাজার করা যায় না।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ইজিবাইক চালক আক্কাস আলী বলেন, “বৃষ্টির সময় যাত্রী কম থাকে। লোকজন দেরিতে বের হয়, আমরাও রাস্তার মোড়ে মোড়ে বসে থাকি। আজকে এখনো ৫০ টাকাও আয় হইল না।”

বৃষ্টি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খুলনার দোকানপাটেও নেমেছে ব্যবসায়িক স্থবিরতা। নতুন বাজারের সবজি বিক্রেতা শামসু কাজী বলেন, “সকাল থেকে ২০০ টাকার বেচাকেনাও হয় নাই। লোকজন ঘর থেইকা বাহির হইতেছে না।”

ডাকবাংলো মার্কেটের পাদুকা ব্যবসায়ী শেখ তৌহিদ আহমেদ জানান, “দুই দিন দোকান খোলা রাখলেও কাস্টমার নাই। বৃষ্টি হলে মার্কেট ফাঁকা থাকে। মাস শেষে দোকানভাড়া, কর্মচারীর বেতন দিতে সমস্যা হয়।”

বৃষ্টির মাঝেও জরুরি ক্লাসে অংশ নিতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। কলেজিয়েট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী শাহানা আক্তার বলেন, “অনেক গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস থাকায় বাধ্য হয়ে ছাতা নিয়ে বের হয়েছি। নইলে এমন বৃষ্টিতে বের হতাম না।”

পরিবহন ব্যবসায়ী বেলাল হাওলাদার বলেন, “দূরের কোনো ট্রিপ নেই। ড্রাইভার-হেল্পার অলস সময় কাটাচ্ছে। অনেক ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে, মাল লোড হচ্ছে না।” তিনি আরও জানান, “পাইকাররা বৃষ্টির জন্য মালামাল পাঠাচ্ছে না, লেনদেনও কমে গেছে।”

খুলনা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান জানান, “মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামীকাল ও পরশু দিনও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।”