সীতাকুণ্ডে খাদ্যবান্ধব চাল বিতরণ ঘিরে বিএনপি-যুবদল সংঘর্ষ

দেশজুড়ে
সীতাকুণ্ডে খাদ্যবান্ধব চাল বিতরণ ঘিরে বিএনপি-যুবদল সংঘর্ষ
নিউজ ডেস্ক
২৬ আগস্ট ২০২৫

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তার ও দুর্নীতির অভিযোগে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৫ আগস্ট) সকালে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের গামারিতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চাল বিতরণ শুরুর পরপরই দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষের সূচনা হয়। এক পর্যায়ে কয়েকজন লাঠি ও রড নিয়ে হামলায় অংশ নেয়। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে চাল নিতে আসা নিম্ন আয়ের মানুষজন ও ট্যাগ অফিসার আশ্রয় নেন পাশের মসজিদে।

সংঘর্ষে সোনাইছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ দৌলা, কৃষকদলের নেতা শফিকুল ইসলাম ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নাছির উদ্দিন আহত হন। নাজিম উদ দৌলাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও বাকি দুজনকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বিএনপি ও যুবদলের স্থানীয় নেতারা এ ঘটনার জন্য একে অপরকে দায়ী করছেন। বিএনপির একাংশের দাবি, সরকারি বিধি অনুযায়ী স্থানীয় বিএনপি নেতা মোজাহের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার হিসেবে চাল বিতরণ করছেন। তবে আর্থিক সুবিধা না পাওয়ায় প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী হামলা চালায়।

অন্যদিকে যুবদলের নেতাদের অভিযোগ, বিতরণ কেন্দ্রে অনিয়ম হচ্ছে এবং মসজিদের ভেতরে চাল বিতরণ করায় তারা এর প্রতিবাদ করতে গেলে হামলার শিকার হন। অভিযোগ রয়েছে, চাল বিতরণে প্রতিজন থেকে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছিল।

ঠিকাদার মোজাহেরুল ইসলাম বলেন, “আমি নিজেও বিএনপি করি। তবে সবাইকে খুশি করেই বিতরণ করা সম্ভব না। কিছু কিছু জায়গায় ৫০-১০০ টাকা নেওয়া হয়েছে, তবে মসজিদের ভেতরে কোনো চাল বিতরণ হয়নি।”

ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মৃত্রা বিশ্বাস বলেন, “উৎশৃঙ্খল একদল যুবক লাঠি ও রড় নিয়ে চাল বিতরণ স্থানে এসে হামলা চালায়। এ সময় আমি ও অনেক নারী-পুরুষ মসজিদে আশ্রয় নিই।”

সীতাকুণ্ড থানার ওসি মজিবুর রহমান বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে আমরা পুলিশ পাঠাই। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনার পরপরই বিতরণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। এলাকাবাসীর দাবি, সরকারিভাবে চাল বিতরণে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটতে পারে।