গ্রেপ্তার আসামিকে থানায় ‘ভিআইপি’ সুবিধা: গোসাইরহাট থানার ওসির বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

দেশজুড়ে
গ্রেপ্তার আসামিকে থানায় ‘ভিআইপি’ সুবিধা: গোসাইরহাট থানার ওসির বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি
নিউজ ডেস্ক
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট থানায় এক সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে ‘বিশেষ সুবিধা’ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যক্তি স্থানীয় বিএনপির সাবেক সভাপতি লিটন হাওলাদার। অভিযোগ, থানার হাজতে থাকা অবস্থায় তাকে খাট, সিগারেট, এমনকি মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া হয়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, তিনি আয়েশে বসে মোবাইলে কথা বলছেন—যা সাধারণ বন্দিদের জন্য কল্পনাও করা যায় না।

ছবিগুলো প্রকাশিত হওয়ার পর পুলিশ প্রশাসনের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ছবি দেখে ধারণা করা হচ্ছে, লিটন হাওলাদারকে অন্য বন্দিদের মতো নয়, বরং ‘ভিআইপি’ অতিথির মতো রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আর্থিক সুবিধা নিয়ে এই ব্যবস্থা করা হয়।

গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আলম প্রথমে দাবি করেন, আসামি অসুস্থ হওয়ায় তাকে ‘চিকিৎসাকেন্দ্রের পাশে একটি কক্ষে’ রাখা হয়েছিল। তবে বিছানা, মোবাইল, সিগারেট—এসব বিষয়ে কোনো স্পষ্ট জবাব দেননি।
তিনি বলেন,

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

“এটা কে করেছে আমি জানি না, তবে যদি হয়ে থাকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মানুষ মাত্রই ভুল করতে পারে।”

পাশাপাশি তিনি অনানুষ্ঠানিকভাবে সংবাদটি প্রকাশ না করার অনুরোধও জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) তানভীর হোসেন জানান,

“আসামি অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসার বিধান রয়েছে। থানার হাজতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

লিটন হাওলাদার গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি। তার বিরুদ্ধে একটি সিআর (২০১/২৪) মামলায় এক বছর দুই মাসের সাজা রয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, রাতেই তাকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে আলাদা কক্ষে রাখা হয় এবং মোবাইল ব্যবহারসহ নানা সুযোগ দেওয়া হয়।