প্রতীক বরাদ্দের আগেই রংপুরে ‘শাপলা প্রতীকে’ এনসিপির মনোনয়ন প্রত্যাশীর পোস্টারিং
রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনয়নপ্রত্যাশী তাকিয়া জাহান চৌধুরীর ‘শাপলা’ প্রতীকে প্রচারণা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) এখনো দলীয় প্রতীক বরাদ্দ না দিলেও পোস্টার ছাপিয়ে এলাকায় সাঁটানো হয়েছে — এমন অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয়রা জানান, পীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যেই তাকিয়া জাহানের ছবি ও ‘শাপলা’ প্রতীকের পোস্টার দেখা যাচ্ছে। পোস্টারে লেখা রয়েছে— “জাতীয় নাগরিক পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী সংসদ সদস্য প্রার্থী (শাপলা মার্কা) তাকিয়া জাহান চৌধুরী, আপনাদের দোয়া ও সমর্থন প্রার্থী।”
তবে নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দ না হওয়ার আগে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকে প্রচারণা চালানো বিধিসম্মত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাকিয়া জাহান বলেন,
“শাপলা প্রতীকসহ পোস্টারগুলো আগেই ছাপানো হয়েছিল, যখন প্রতীক বিতর্ক ছিল না। এগুলো ভুলক্রমে লাগানো হয়েছে, ইচ্ছাকৃত ছিল না।”
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার আলোকে প্রতীক বরাদ্দের আগেই নির্দিষ্ট প্রতীক ব্যবহার করা নির্বাচন আচরণবিধির লঙ্ঘন হতে পারে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম-মুখ্য সংগঠক আসাদুল্লাহ আল গালিব জানান,
“তাকিয়া জাহান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দলের সদস্য না হলেও একজন সক্রিয় সমর্থক। বিভিন্ন স্থানে আমাদের সমর্থকেরা মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন, এটা অস্বাভাবিক নয়।”
‘শাপলা’ প্রতীক ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“মানুষ এখন শাপলা মানেই এনসিপিকে বুঝে নিচ্ছে। তাই সমর্থকেরা এটিকে ব্যবহার করছে। আমরা জোর করে থামাতে পারি না।”
উল্লেখ্য, গত নির্বাচনে তাকিয়া জাহান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সরকার পতনের পর এনসিপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং এখন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে পরিচিত হচ্ছেন।
তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ ও মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার আগেই এমন প্রচারণা আইনগত ও নৈতিকভাবে কতটা গ্রহণযোগ্য—সেই প্রশ্ন এখন ভোটারদের মাঝে।


