তিন দশকের কলেজে শিক্ষার্থী মাত্র পাঁচজন, নেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক
চকচকে চারতলা ভবন, তবে শ্রেণিকক্ষে নেই পাঠের সাড়া—এ যেন দাঁড়িয়ে থাকা এক নীরব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিচ্ছবি। মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার দক্ষিণ মেদিনীমণ্ডলে অবস্থিত মেদিনীমণ্ডল গার্লস কলেজ আজ শিক্ষার্থী সংকট ও শিক্ষকের অভাবে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
১৯৯৩ সালে নারীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজে বর্তমানে শুধুমাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থী রয়েছে। এমপিওভুক্ত না হওয়ায় স্থায়ী কোনো শিক্ষক নেই। আছেন একজন অধ্যক্ষ, চারজন খণ্ডকালীন শিক্ষক এবং একজন আয়া। এর মধ্যে খণ্ডকালীন শিক্ষকরা নিয়মিত আসেন না।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর সরকার নির্ধারিত ফি দিয়ে ১১টি বিষয়ের স্বীকৃতি নবায়ন করা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ২০২3 শিক্ষাবর্ষে কলেজ থেকে মাত্র চারজন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন, পাস করেন মাত্র একজন।
অধ্যক্ষ রোজিনা আক্তার বলেন,
“আমরা শিক্ষকদের বেতন দিতে পারছি না। তারা অন্য চাকরি করে কোনোভাবে সংসার চালান। এমপিওভুক্ত না হওয়ায় ভালো শিক্ষকও টিকছে না। শিক্ষার্থী না আসার এটিই বড় কারণ।”
লৌহজং উপজেলায় ১২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে প্রতিবছর ৫০০-৬০০ শিক্ষার্থী এসএসসি পাস করে। কিন্তু তারা পাশের সরকারি কলেজ বা ঢাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়। মেদিনীমণ্ডল গার্লস কলেজে ভর্তি হয় না প্রায় কেউই।
দক্ষিণ মেদিনীমণ্ডলের প্রয়াত জলিল হাওলাদার এক একর জমি দান করে কলেজের ভিত্তি স্থাপন করেন। ১৯৯৪ সালে সাবেক সংসদ সদস্য ইউং কমান্ডার (অব.) এম হামিদুল্লাহ খাঁন বীরপ্রতীক-এর সভাপতিত্বে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন,
“দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক নেই, শিক্ষার্থীও নেই। অর্থের অভাব চরমে। আমরা চাইলেও নতুন শিক্ষক নিতে পারছি না। কলেজটি কেবল নামমাত্র চালু আছে।”
লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নেছার উদ্দিন জানান,
“কলেজটি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। যদি তারা আমাদের কাছে সহযোগিতা চায়, আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করবো।”
শিক্ষাবিদরা বলছেন, সরকার চাইলে বিশেষ কিছু শর্ত সাপেক্ষে এ ধরনের কলেজগুলোকে আংশিক এমপিও বা বিশেষ তহবিলের আওতায় এনে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে। তা না হলে এসব প্রতিষ্ঠান কেবল বিলুপ্তির তালিকায় নাম লেখাবে।


