স্কুল স্থাপনের নামে কৃষকের জমি দখল ও ১৭৫টি গাছ কাটার অভিযোগ

দেশজুড়ে
স্কুল স্থাপনের নামে কৃষকের জমি দখল ও ১৭৫টি গাছ কাটার অভিযোগ
নিউজ ডেস্ক
২৯ অক্টোবর ২০২৫

কুমিল্লার দেবিদ্বারে স্কুল প্রতিষ্ঠার নামে স্থানীয় এক কৃষকের ২০ শতাংশ পৈতৃক জমি জোরপূর্বক দখল ও বনায়নকৃত প্রায় ১৭৫টি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী কৃষক হাবিবুর রহমান থানায় অভিযোগ করার পর জীবননাশের হুমকিতে পরিবার নিয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে, গত ২৫ অক্টোবর।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সুলতানপুর গ্রামে নতুন একটি স্কুল স্থাপনের উদ্যোগ নেয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। কৃষক হাবিবুর রহমান জমি দিতে রাজি না হওয়ায় প্রথমে গত ৯ সেপ্টেম্বর ২৫টি গাছ কেটে ফেলা হয়, পরে ২৫ অক্টোবর আরও ১৬০টি গাছ কেটে ভেকু দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

হাবিবুর রহমান বলেন,

“আমার ২০ শতাংশ পৈতৃক জমি জোর করে নিতে চায় শাহীন ও তার সহযোগীরা। আমি রাজি না হওয়ায় তারা গাছ কেটে দিয়েছে। থানায় অভিযোগ করার পরও হুমকি বন্ধ হয়নি, তাই পরিবার নিয়ে পালিয়ে আছি।”

ভুক্তভোগীর আত্মীয় সাইফুল ইসলাম বলেন,

“স্কুল প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে খাসজমি দখল করে হাবিবুর রহমানের জায়গা নিয়ে মাছের প্রজেক্ট করা। এলাকাতেই আগে থেকেই একাধিক স্কুল আছে।”

অন্যদিকে স্কুল স্থাপন উদ্যোগের উদ্যোক্তা শাহনেওয়াজ শাহীন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,

“আমি সমাজের উন্নয়নের লক্ষ্যে স্কুল করতে চাই। হাবিবুর রহমানের জমি কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিছু লোকের কুপরামর্শে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি মীমাংসা হয়ে যাবে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশের দাবি, গ্রামের ৯৯ শতাংশ মানুষের সম্মতিতে স্কুল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাবিবুর রহমানকে বিনিময়ে ১৭ শতাংশ জমি দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে আগামী ৩০ অক্টোবর থানায় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

দেবিদ্বার থানার ওসি শামসুদ্দীন মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন,

“অভিযোগ পেয়েছি। উভয় পক্ষকে শুক্রবার থানায় ডাকা হয়েছে। সমাধান না হলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম জানান,

“গাছ কাটার অভিযোগের বিষয়ে এসিল্যান্ডকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”