রায় সন্তোষজনক, দ্রুত কার্যকর হোক: শহীদ আবু সাঈদের পরিবার

দেশজুড়ে
রায় সন্তোষজনক, দ্রুত কার্যকর হোক: শহীদ আবু সাঈদের পরিবার
নিউজ ডেস্ক
১৭ নভেম্বর ২০২৫

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর শহীদ আবু সাঈদের পরিবার সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

শহীদ আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী বলেন, “আমরা এই রায়ে খুশি হয়েছি। তবে রায় দ্রুত কার্যকর করা হবে—এটাই আমাদের আশা।”
অপরদিকে, শহীদের বাবা মকবুল হোসেন জানান, “শুধু রায় ঘোষণা করলেই হবে না, দণ্ডপ্রাপ্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে কার্যকর করা আবশ্যক।”

মায়ের বেদনাও প্রকাশ পেল। শহীদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, “আমার ছেলেকে হারানোর শূন্যতা কোনোদিন পূরণ হবে না। যেন আর কোনো মায়ের বুক এইভাবে খালি না হয়, তাই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা আবশ্যক।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সোমবার (১৭ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর তিন সদস্যের প্যানেল—চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার ও সহ-সদস্যরা বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী—এই রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময়, মামলার একমাত্র গ্রেফতারকৃত আসামি পূর্ব-আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। তিনি বলেন, তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আন্দোলন দমনের জন্য ‘মারণাস্ত্র’ ব্যবহার করেছিলেন।

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ গণঅভ্যুত্থান দমন সংক্রান্ত মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছিল—

  1. উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান।

  2. প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূলের নির্দেশ।

  3. রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে হত্যার নির্দেশ।

  4. রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যার নির্দেশ।

  5. আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার নির্দেশ।

আবু সাঈদ ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক। গত বছরের ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্ক মোড়ে পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে তিনি নিহত হন। তার মৃত্যুর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে আন্দোলন তীব্র হয়। একপর্যায়ে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন ঘটে।

এ মামলার প্রধান আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল বর্তমানে পলাতক অবস্থায় থাকায় রায় কার্যকর করা এখন সরকারের হাতে। ট্রাইব্যুনাল আইনে, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ থাকে, তবে পলাতকদের জন্য তা প্রযোজ্য নয়।