পুলিশ বক্স স্থাপনের কথা বলে বিএনপি প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা আদায়, আটক ২
দিনাজপুরে পুলিশ সুপারের নাম ও ছবি ব্যবহার করে নির্বাচনকালীন সময় পুলিশ বক্স স্থাপনের কথা বলে দুই বিএনপি নেতার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আনোয়ার হোসেন।
পুলিশ জানায়, প্রতারণার শিকার হয়েছেন দিনাজপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান সরকার এবং দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আখতারুজ্জামান মিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, প্রতারক চক্রটি হোয়াটসঅ্যাপে পুলিশ সুপারের ছবি সংযুক্ত একটি নম্বর ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারা নিজেদের দিনাজপুরের পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা পরিচয় দিয়ে জানায়, নির্বাচন উপলক্ষে চিরিরবন্দর সড়কে পুলিশ বক্স স্থাপন করা হবে এবং এজন্য আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
আইজিপি পরিদর্শনে আসবেন—এমন ভুয়া তথ্য দিয়ে দ্রুত টাকা পাঠানোর চাপ সৃষ্টি করা হয়। এতে বিশ্বাস করে দুই বিএনপি নেতা বিকাশ ও অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মোট ২ লাখ টাকা পাঠান।
পরে প্রতারকরা আরও টাকা দাবি করে এবং কাস্টমসের মালামাল কম দামে দেওয়ার প্রলোভন দেখালে ভুক্তভোগীদের সন্দেহ হয়। বিষয়টি সরাসরি পুলিশ সুপারকে জানানো হলে প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ পায়।
ভুক্তভোগী হাফিজুর রহমান সরকার জানান, ফোনে পুলিশ সুপারের ছবি ও নাম দেখে তিনি বিষয়টি বিশ্বাস করেন। তবে পরবর্তীতে ভিডিও কল এড়িয়ে যাওয়ায় তিনি নিশ্চিত হন এটি প্রতারণা।
গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন—
নেত্রকোনার কেন্দুয়ার চরহোসেনপুর গ্রামের জুনাইদ খন্দকার (২৪) এবং
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রয়েরবাড়ী গ্রামের মো. হিমেল (২২)।
এ ঘটনায় চিরিরবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশ সুপার জানান, এ ধরনের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকতে এবং সন্দেহজনক কল বা আর্থিক দাবি পেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে।


