আমতলীতে বোরো চাষে ব্যস্ত কৃষকরা, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াতে পারে আবাদ
???????
আমন ধান কর্তন শেষ করে বরগুনার আমতলী উপজেলার কৃষকরা বোরো ধান
চাষের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। বাজারে ধানের দাম ভালো থাকায় গত বছরের
তুলনায় এ বছর বোরো আবাদে কৃষকদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আমতলী উপজেলায় ৬
হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা
হয়েছে। যা গত বছরের ৪ হাজার হেক্টরের তুলনায় ২ হাজার হেক্টর বেশি।
কৃষকদের বাড়তি আগ্রহের কারণে এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলেও
আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইতোমধ্যে অধিকাংশ কৃষক বোরো ধানের বীজতলা তৈরির কাজ শেষ করেছেন।
কৃষি অফিসের উদ্যোগে বোরো আবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করতে ২ হাজার
১০০ জন কৃষকের মধ্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার
৪০০ জন কৃষককে ২ দশমিক ৮ মেট্রিক টন হাইব্রিড এবং ৭০০ জন
কৃষককে ৩ দশমিক ৫ মেট্রিক টন উফশী বোরো ধানের বীজ সরবরাহ করা
হয়। পাশাপাশি উফশী চাষে আগ্রহী ৭০০ জন কৃষকের মাঝে ১৪ মেট্রিক টন
এমওপি ও ডিএপি সার বিতরণ করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার গুলিশাখালী, আঠারোগাছিয়া, কুকুয়া,
হলদিয়া, চাওড়া, আমতলী সদর, আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন ও আমতলী
পৌরসভার কৃষকরা বর্তমানে জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার
করছেন।
পশ্চিম সোনাখালী গ্রামের কৃষক সোহেল রানা, বাহাউদ্দিন, শাহীন মৃধা ও
হাসান হাওলাদার বলেন, বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করেছি। বীজ ভালো
হয়েছে। জমি প্রস্তুত শেষ। দু-এক দিনের মধ্যেই জমিতে চারা রোপণ করবো।
মানিকঝুঁড়ি গ্রামের আদর্শ কৃষক আব্দুল মান্নান হাওলাদার বলেন, এক
একর জমিতে বোরো ধান চাষের জন্য বীজতলা করেছি। কৃষি অফিস থেকে
বীজ ও সার পাওয়ায় চাষে উৎসাহ বেড়েছে।
চাওড়া কাউনিয়া গ্রামের কৃষক জুয়েল মৃধা জানান, জমি প্রস্তুত করা শেষ
হয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যেই চারা রোপণ করবেন।
আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, গত বছরের তুলনায় এ
বছর কৃষকরা বেশি জমিতে বোরো ধান চাষে আগ্রহী। গত বছর লক্ষ্যমাত্রা
ছিল ৪ হাজার হেক্টর। আশা করছি এ বছর তা ৬ হাজার হেক্টর ছাড়িয়ে
যাবে। কৃষকদের উৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় বীজ ও সার বিতরণ অব্যাহত
রয়েছে।
বোরো ধান চাষের উপযুক্ত সময় অগ্রহায়ন মাস থেকে শুরু করে পৌষ মাসের
মাঝামাঝি পর্যন্ত। প্রায় পাঁচ মাসের জীবনচক্র শেষে কৃষকরা ধানের ফলন
পেয়ে থাকেন।


