ভোটে জিতেই আওয়ামী লীগের তালাবদ্ধ কার্যালয় খুলে দিলেন বিএনপি নেতা

দেশজুড়ে
ভোটে জিতেই আওয়ামী লীগের তালাবদ্ধ কার্যালয় খুলে দিলেন বিএনপি নেতা
নিউজ ডেস্ক
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পঞ্চগড় সদর উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর একটি ইউনিয়ন কার্যালয়ের তালা খুলে দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতা আবু দাউদ প্রধান। শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিস খুলে দিয়ে তিনি এলাকায় শান্তি ও সহাবস্থানের আহ্বান জানান।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মন্তব্যের ঝড় ওঠে।

ভিডিওতে চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বুলেটকে বলতে শোনা যায়, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান তালা খুলে দিয়ে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন অভিযোগ করেন, তাদের নামে মিথ্যা মামলা হয়েছে এবং সেসব মামলা থেকে রক্ষার অনুরোধ জানান আবু দাউদ প্রধানের কাছে।

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আনিসুজ্জামান স্বপন বলেন, “বাংলাদেশের পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কেউ ছিনিবিনি খেলতে চাইলে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে তা মোকাবিলা করব। দলমত নির্বিশেষে সবাই এলাকায় থাকতে চাই।”

বিএনপি নেতা আবু দাউদ প্রধান বলেন, “আমি কিছুক্ষণ আগে জানতে পারি আওয়ামী লীগের অফিসে তালা দেওয়া আছে। আগে জানলে আগেই ব্যবস্থা নিতাম। দীর্ঘ ১৮ বছর পর আমাদের বিজয় এসেছে। তবে কোনো অবস্থাতেই এলাকায় অশান্তি চাই না।”

তিনি আরও বলেন, “প্রত্যেক দলে কম-বেশি দুষ্ট প্রকৃতির লোক থাকে। দল থেকে তাদের বহিষ্কারের ব্যবস্থা আছে। আওয়ামী লীগের ভাইদের বলব—স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে অন্যায় করবেন না। কেউ অন্যায় করলে আমাকে জানাবেন, আমি প্রশ্রয় দেব না।”

মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন দাবি করেন, কার্যালয়টি আগে জামায়াতের লোকেরা তালাবদ্ধ করে রেখেছিল। বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধারা কার্যালয়টি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করছেন এবং আপাতত তারা এটি ব্যবহার করবেন। আওয়ামী লীগের কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম এখনই সেখানে হবে না বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে আবু দাউদ প্রধান বলেন, “এটা আমার দলের কোনো সিদ্ধান্ত নয়। এলাকায় উত্তেজনা না বাড়িয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্যই অফিসটি খুলে দেওয়া হয়েছে।”

ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে রাজনৈতিক সহনশীলতার উদাহরণ বলছেন, আবার কেউ সমালোচনা করছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।